চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ৭১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৫ জন এবং নারী ৩১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৫৮ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন। এসব ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার ৫১ জন। যাদের অধিকাংশই তরুণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণ এই নতুন ভোটারদের মধ্যে রাজনীতিতে খুব ছোট একটা অংশ জড়িত। বাকি ভোটাররা দলনিরপেক্ষ তারা কোন প্রার্থী বা দলকে পছন্দ করেন সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দেন না। বরং মুখে কুলুপ আঁটা। ফলে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনি হিসাবনিকাশে ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন তরুণ এই ভোটাররা। ৩ লাখের অধিক তরুণ ভোটারের বেশির ভাগই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আঞ্চলিক নির্বাচনি কার্যালয় সূত্র বলছে, ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম কিংবা যারা আগের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এক একটি আসনে নতুন যুক্ত হওয়া তরুণ ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত। ১৬ আসনে গড়ে নতুন ভোটার ১৯ হাজার তিনজন। যাদের বয়স ১৮-৩৩ বছরের মধ্যে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণত পুরোনোদের চেয়ে নতুন ভোটাররা নির্বাচন নিয়ে বেশি আগ্রহী থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তরুণরা সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলে স্বাভাবিকভাবেই ভোটের মাঠে যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে বিপক্ষে প্রভাব তৈরি হতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে বেশ কয়েকজন নতুন ভোটার আলাপকালে জানান, স্বভাবতই নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ আছে। এদের কেউ কেউ নিজের পছন্দের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি আগ্রহের কথা জানালেও অনেক তরুণ এখনো প্রার্থী ও প্রতীক বাছাইয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন। যদিও তারা ভোট দিতে আগ্রহী। আবার কিছু তরুণ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাননি।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তরুণদের মনস্তত্ত্ব প্রায় একই ধরনের হওয়ায় তারা প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এ ছাড়া বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে নানামুখী প্রচারের ফলে প্রার্থীদের ইমেজ ও সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তরুণরা পরিষ্কার ধারণা রাখেন। এ কারণে তারা যদি কোনো একটি নির্বাচনি আসনে কোনো একজন প্রার্থীকে বেছে নেন তাহলে সেই প্রার্থী এগিয়ে যাবেন। বিশেষ করে যেসব আসনে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান কাছাকাছি হবে সেসব আসনে তরুণদের ভোট বেশি ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে যাচাইবাছাই শেষে ১১৫ জন প্রার্থী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও বেশ কিছু ছোট দলের প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে জয়ের জন্য ছুটছেন। এর বাইরে বেশ কয়েকজন শক্ত স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বীও নির্বাচনি মাঠ গরম করে রেখেছেন। ফলে তরুণদের কাছে টানতে পারলে বেশ কয়েকটি আসনে ভোটের প্রত্যাশিত চিত্র পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।