জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ধানমন্ডি প্রকল্পে অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগে দুদকের সাবেক কমিশনার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সাবেক বিচারকসহ ঊর্ধ্বতন আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন মামলাটি করেন। মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে তাঁরা হলেন দুদকের সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব ও দুদকের সাবেক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান দেলওয়ার হায়দার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শাহজাহান আলী, সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ড. মো. মইনুল হক আনছারী, সদস্য (পরিকল্পনা, নকশা ও বিশেষ প্রকল্প) বিজয় কুমার মণ্ডল, প্রকল্প পরিচালক (প্রকৌশল ও সমন্বয়) কাজী ওয়াসিফ আহমাদ ও সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল (সিনিয়র জেলা জজ) সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় মূল্যবান সম্পদ বৈষম্যমূলকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এজাহারে দুদকের সাবেক দুই কমিশনারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কাজে অনৈতিক, বৈষম্যমূলক ও বিধিবহির্ভূতভাবে অন্যান্য ফ্ল্যাটের প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট অনুমোদন প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাঁরা পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা হলফনামা প্রদান করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে ওই সম্পদ অর্জন করেন। এদিকে দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বাড়ি-৭১১ (নতুন ৬৩), সড়ক-১৩ (নতুন ৬/এ) শীর্ষক গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২২২তম ও ২২৫তম বোর্ড সভায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যান্য ফ্ল্যাটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের চারটি ফ্ল্যাট একত্র করে দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট নির্মাণ ও বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের আয়তন যথাক্রমে ৪১০৫.০৫ বর্গফুট এবং ৪৩০৮.৬৮ বর্গফুট। একই সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে স্থাপত্য নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দিনের ভোট রাতে নেওয়ায় জড়িত’ থাকা সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে পুরস্কারস্বরূপ ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছরের ১২ মে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় দুদক। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধানমন্ডি-৬-এর ৬৩ নম্বর প্লটটি মূলত সরকারি খাসজমি, যার বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি।