নির্বাচনে চট্টগ্রামে কাক্সিক্ষত জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। নির্বাচনে ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয় পেয়েছেন তারা। এর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী নিজের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করেছেন। বাকি ১১ জন এমপি হিসেবে প্রথমবারের মতো পা রাখতে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদ ভবনে। এমন বিজয়ের নেপথ্যে কাজ করছে বিএনপির ঐক্যবদ্ধতা, সাধারণ ভোটারদের কাছে টানতে পারাসহ অন্তত ৮টি ফ্যাক্টর। বিএনপির এমন নিরঙ্কুশ বিজয়কে দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার। তাঁর মতে, ‘এ বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি গণমানুষের দল তা আবার প্রমাণ হয়েছে। দলীয় ঐক্য, সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে এমন বিজয় সম্ভব হয়েছে।’
লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া চট্টগ্রাম-৫ আসনের এমপি ও বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বড় ব্যবধানে বিজয়ী করে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেছে। তাদের আস্থা ও বিশ্বাসের যথাযথ মূল্যায়ন করাই হবে আমার এখন অন্যতম কাজ।’
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে কাজ করছে অন্তত ৮টি ফ্যাক্টর। এর মধ্যে রয়েছে- অন্তঃকোন্দল মিটিয়ে দল মনোনীত প্রার্থীর হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা, পুরোনো ভোটব্যাংকের পুরোপুরি সৎব্যবহার, তরুণ ভোটারদের মন জয়, নারী ভোটারদের আস্থা, সংখ্যালঘুদের বিশ্বাস অর্জন, ‘চাটগাঁইয়া’ আঞ্চলিকতার টান, পীর-মাশায়েখ এবং কওমি মতাদর্শী ভোটারদের নিজেদের পক্ষে নেওয়া এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে টানতে পারা অন্যতম। নির্বাচনে নিজের হারানো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন পাঁচজন সাবেক এমপি। তাদের মধ্যে চারজনই বিএনপির। তারা হলেন চট্টগ্রাম-৩ মোস্তাফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৬ গিয়াস কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১১ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৩ সরোয়ার জামান নিজাম। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীও তাঁর পুরোনো রাজত্ব ফিরে পেয়েছেন। চট্টগ্রামে নতুন মুখ এসেছে ১১টি। তাদের মধ্যে দুজন আবার পিতার আসন পুনরুদ্ধার করেছেন। তারা হলেন বিএনপির দুই প্রয়াত নেতার সন্তান চট্টগ্রাম-৭ হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১০ সাঈদ আল নোমান। এমপি হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদে পা রাখতে যাওয়ারা হলেন- চট্টগ্রাম-১ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৮ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৪ জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৬ জহিরুল ইসলাম। তবে আপিল বিভাগে দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর ফলাফল স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।