দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে নারীদের অন্যতম পছন্দ ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাক। এবার রমজানে এখন পর্যন্ত পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যা বেশি লক্ষ করা গেছে। বেচাকেনায় সন্তুষ্ট দোকানিরাও। তাঁরা বলছেন, ভারতীয়, পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা সব সময় থাকেই। আর ঈদ উপলক্ষে এবার সারারা, ঘারারার পাশাপাশি জনপ্রিয় মারিয়াবি, আগানুর, সাদাবাহার ইত্যাদি পোশাক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্যদিকে অর্গাঞ্জার মধ্যেও সারারা ও সালোয়ার-কামিজ অনেক বেশি চলছেবলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আলবেলি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পাকিস্তানি পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় বুটিকসের চাহিদা এবার খুব বেশি। বেচাকেনা ভালো চলছে তাকওয়া’স, নুর’স, শালিকা, দিল্লি বুটিকস ইত্যাদির। ১০ রমজানের পর থেকেই মানুষের ভিড় বাড়ছে এ শপিং মলে। সামনে আরও ভিড় বাড়বে প্রত্যাশা করছি।’ বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে মধ্য ও উচ্চবিত্ত দুই শ্রেণির মানুষের ভিড় লেগে থাকে সারা বছর। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গতকাল লোকারণ্য ছিল শপিং মলটি। সকাল থেকেই ক্রেতার ভিড় বাড়তে থাকে আউটলেটগুলোতে। যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, পান্থপথ, গ্রিন রোড, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ শপিং মলে পোশাক কিনতে আসেন। বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম পরিবার নিয়ে এসেছেন ঈদের বাজার করতে। শপিং মলটির লেভেল-৪-এ কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখানে বাচ্চাদের খেলার জায়গা আছে, আবার খাবারেরও সুব্যবস্থা রয়েছে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় আরাম করে শপিং করা যায়।’ পরিবার নিয়ে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে আসা ডা. দিলরুবা শাওন বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। আজ এসেছি আত্মীয়স্বজনদের জন্য শপিং করতে। উপহারের জন্য ভারতীয় এবং পাকিস্তানি থ্রি পিসে আমার ভরসা।’
আগের বছরের চেয়ে এ বছর আরও ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করেন বিক্রেতারা। ফ্যাশন হাউস ‘ইলা’র বিক্রয়কর্মী রুবেল বলেন, ‘আসছে সপ্তায় আরও বিক্রি বাড়বে। যেকোনো উৎসব-পার্বণে আনন্দের মাত্রা বহগুণে বেড়ে যায়। দেশের সব বড় ব্র্যান্ডের শোরুম ও আউটলেট একসঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকায় এবারও ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে বসুন্ধরা শপিং মল।’
বসুন্ধরার লেভেল-২-তে ডেজেলের আউটলেটে বিক্রয়কর্মী মামুন বলেন, ‘ঈদের পোশাক অনেক সময়ই হয়ে ওঠে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত কেনাকাটা। সেই প্রতীক্ষার মর্যাদা গুরুত্ব দিয়ে আমাদের এখানে কাপড়ের গুণগত মান, ফিনিশিং এবং পরার আরামের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা ও স্বস্তিদায়ক ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে দিনভর ব্যস্ততা কিংবা ভ্রমণেও স্বস্তি বজায় থাকে। ফ্যাশন যেন কখনোই অস্বস্তির কারণ না হয়, এ বার্তাই লুকিয়ে আছে প্রতিটি পোশাকে।’