দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে সারা বছরই ক্রেতা সমাগম থাকে। আর আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে এই বিপনিবিতান। ঈদের পোশাক কিনতে এখানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষজন। কেউ দেখছেন নতুন শাড়ি, কেউ পাঞ্জাবী। শিশুদের কর্নারেও লেগেছে ঈদের ছোঁয়া। এক কথায় উৎসবের হাট বসেছে এই বিপনিবিতানটিতে। চারিদিকে হাসি, কোলাহল আর রঙের মেলা। চাঁদ রাত পর্যন্ত এখানে ভিড় থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দেখা যায়, লোকে লোকারণ্য এই বিপনিবিতান। আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, রামপুরা, মালিবাগ, পান্থপথ, গ্রিনরোড, বনানী, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ শপিং মলে পোশাক কিনতে আসছেন। বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন পরিবার নিয়ে এসেছেন ঈদের বাজার করতে। আমিন জুয়েলার্সের আউটলেটে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে সবার জন্য ঈদের পোশাক অনুসঙ্গ পাওয়া যায় বলে বসুন্ধরায় শপিং করতে আসি। আজকে এসেছি পরিবারের ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য ঈদ উপহার কেনাকাটা করতে।’ ফ্যাশন হাউজ ইজির বিক্রয়কর্মী মো. মারুফ বলেন, পাঞ্জাবি ও শার্টের চাহিদা আমাদের এখানে সারা বছর থাকে। তবে ঈদ ও উৎসবে বিক্রি বেশি হয়। এবার ১০ রমজান থেকেই মানুষের সমাগম রয়েছে। ছুটির দিনে আজকে তো দেখতেই পাচ্ছেন কথা বলার ফুসরত পাচ্ছি না। সবার হাতেই শপিংব্যাগ।
শপিং করতে আসা মগবাজারের বাসিন্দা ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, এবার ছোটদের জামাকাপড়ের দাম আগের চেয়ে একটু বেশি। ছোটদের পণ্য বিক্রেতারা জানান, এখন কাপড়-চোপড় বিশেষ করে ছোটদের পণ্য আমদানি করে আনতে হয় বেশিরভাগ। এগুলোর চাহিদাও বেশি। সিংহভাগই আসে ভারত এবং চীন থেকে। তবে দেশীয় পণ্যের দাম একই রয়েছে। দেশি দশে’র বিক্রয়কর্মী সাদিয়া আক্তার বলেন, এবার ঈদে বিদেশী পোশাকের পাশাপাশি দেশি পোশাকের চাহিদাও অনেক বেশি। তাই সব উৎসবেই আমাদের এখানে নতুন পোশাক থাকে। এবারের ঈদে আমাদের কালেকশনে সবই নতুন পোশাক। বিক্রিও খুব ভালো হচ্ছে। মেয়েদের পোশাকের বেচাবিক্রি তুলনামূলক বেশি।
নীলা রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, এখানে সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যায়। বাবা-মা’র সাথে এখানে আসতাম। এখন বাবা নেই কিন্তু মায়ের সাথে ঠিকই আসি এই বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে। উৎসব আয়োজনে আমাদের সঙ্গে মিশে রয়েছে এই শপিংমল।