মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কার চোখ রাঙাচ্ছে। এ যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি ‘রেমিট্যান্স’ প্রবাহ বড় ধরনের আঘাত হানবে। বিশেষ করে দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ জোগান দেওয়া চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে প্রবাসী আয়ে ধস নামার পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানিতেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশ অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবীদ অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় তাহলে দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। অনেক প্রবাসী চাকরি হারাবেন। নতুন শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ভাটা পড়বে। শঙ্কার কথা হচ্ছে এ সংকট চলতি মার্চ থেকেই শুরু হতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে কথা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতার সঙ্গে। ওই দেশের আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, এখন পর্যন্ত জনবহুল এলাকায় বড় ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সবাই আতঙ্কে রয়েছে। এ যুদ্ধ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এবং দীর্ঘমেয়াদি হলে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তখন পুরোদমে বন্ধ হয়ে যাবে কাজ কর্ম। এতে বেকার হয়ে পড়বেন লাখ লাখ শ্রমিক। এতে করে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশে টাকা পাঠানো।
জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আবর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং ওমানে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার ৪০ লাখের অধিক প্রবাসী কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই হচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, সাধারণ শ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ড্রাইভার, রাজমিস্ত্রি এবং মেকানিক। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে অবকাঠামো নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে নির্মাণ শ্রমিক এবং সাধারণ শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমে যাবে। ফলে তারা আগের মতো বেশি টাকা দেশে পাঠাতে পারবে না। এসব কারণে দেশের নিয়মিত রেমিট্যান্সের উৎস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রবাসীরা চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে ৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রেমিট্যান্স পাটিয়েছে ৮ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। যা দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আসে ৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। যা মোট রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আসে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। যা দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমান বন্দরের এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকার কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ৮০টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ৮ দিনে ২২ হাজারের অধিক প্রবাসী কর্মস্থলে যেতে পারেনি। যাদের সিংহভাগ ভাগই হচ্ছেন শ্রমিক।’