রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাটপুকুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সরকারি দপ্তরে ওই সমিতির সভাপতি খালিদ হাসান। নথিতে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানা যায়, তিনি খালিদ হাসান নন, বাড়িও গোদাগাড়ীতে নয়। গোদাগাড়ী উপজেলায় রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে গত বছরের ৭ মে। কিন্তু ওই উপজেলায় নুন্দাপুর নামে কোনো গ্রাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। একটি-দুটি নয়, ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পুকুর ইজারা নিতে এমন শতাধিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিয়েছে জালিয়াত চক্র। জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম জানান, তারাও এমন অভিযোগ পেয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন। যেসব নাম-পরিচয়ের অস্তিত্ব নেই, সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একাধিক রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। সদস্যদের যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। সেগুলোর ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ শতাধিক খাস পুকুর আছে। সেগুলোকে কবজায় রাখতে এমন ভুয়া মৎস্যজীবী সমিতির রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে। এ চক্রের প্রধান হিসেবে নাম এসেছে শরিফুল ইসলাম বিশুর। চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম, গোদাগাড়ী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জিগার হাসরত, জেলা সমবায় অফিসের ‘অফিস সহায়ক’ ফেরদৌসী, পরিদর্শক খাইরুল ইসলাম, তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের ‘অফিস সহকারী’ মোস্তাফিজুর রহমান। গোদাগাড়ী সমবায় অফিসার জিগার হাসরত এমন জালিয়াতির সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। শরিফুল ইসলাম বিশু বলেন, ‘আমার নামে দুটি সমিতি। সেগুলো ২০১৫ সালের আগে রেজিস্ট্রেশন। আমি এরপর আর কোনো রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত নই। বেলাল, হারুন, শামীম ভুয়া ঠিকানা, পরিচয় ব্যবহার করে সমিতির রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। এ বছরের ২০-২৮ জানুয়ারির মধ্যে ২০টার বেশি সমিতির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। আমিই এসব অবৈধ সমিতির বাতিল চেয়েছি।’
নথিপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, মাধবপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, গোদাগাড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, গোদাগাড়ী পৌর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, ফরিদপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, রামনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, গোলাপফুল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, কাঁকনহাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, বরেন্দ্র মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ অর্ধশত সমিতির রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে ভুয়া কাগজপত্রে। অফিসের ফাইলে থাকা কাগজপত্রের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। নথির মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে একাধিকজনকে কল দেওয়া হয়। বেশির ভাগ মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। যারা ফোন রিসিভ করেছেন, তারা এমন কোনো সমিতি সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেছেন। হাটপুকুর রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে দেখানো হয়েছে শামীম রেজা নামের একজনকে। শামীম রেজার নামের পাশে থাকা মোবাইল নম্বরে কল করলে বাগমারা উপজেলার রহিম নামের একজন রিসিভ করেন। জানান, তিনি কোনো মৎস্যজীবী সমিতির সঙ্গে জড়িত নন। দিগন্ত মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন জানান, বিশু দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট বানিয়ে নামে-বেনামে পুকুর দখল করে রেখেছে। তার দখলে অর্ধশত পুকুর ও সমিতি আছে। যার সঠিক কাগজপত্র নেই।