বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার জনগণকে জুলাই গণ অভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকস্মিকতায় তারা প্রথমে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। তখন তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা মিডিয়ার সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, ‘এই মাসুম মাসুম বাচ্চারাই আজ আমাদের মুক্ত করেছে।’ কিন্তু ৫ আগস্ট রাত পেরোতেই তাদের অবস্থান পাল্টাতে শুরু করে। তারা তখন উপলব্ধি করে যে এই আন্দোলনে তাদের কোনো কৃতিত্ব নেই; ফলে ছাত্র-জনতার হাতে সেই কৃতিত্ব চলে যাচ্ছে। সেই কারণেই সেদিনের পর থেকে ধীরে ধীরে তারা তাদের অবস্থান বদলাতে থাকে এবং আজ এসে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। গতকাল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান জনাব মজিবুর রহমান মঞ্জু, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুনির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশীর প্রমুখ।
বিএনপির উদ্দেশে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যের ইতিহাস রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ রেখে আন্দোলন করেছি। প্রতিটি আন্দোলনে তাদের সঙ্গে একসঙ্গে থেকেছি। একসঙ্গে নির্বাচন করেছি। বিগত নির্বাচনেও একসঙ্গে নির্বাচন করার চিন্তায় ছিলাম একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি থেকে আমরা বিএনপির সঙ্গে না গিয়ে বিপরীত অবস্থান করলাম, এটা এখন জনগণের নিকট স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে এত মানুষের রক্ত, কষ্ট, তাদের পঙ্গুত্ব, অসহায়ত্ব বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এই চিন্তা, এই চেতনা থেকেই আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়েছি।