বিএনপি আমলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি ছিলেন প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতা। ক্ষমতার পালা বদলে আওয়ামী লীগের পুরোটা সময়জুড়ে ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) গুরুত্বপূর্ণ পদে। সব উপাচার্যই তাকে সমীহ করে চলেছেন। মাসুম হাবিব উপাচার্য থাকাকালীন এই চিকিৎসক একাই ছিলেন সাত পদে। পদত্যাগ করা উপাচার্য অধ্যাপক মোস্তাক হোসেন তুহিনের সময় ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক নিয়োগ পেয়েছেন উপাচার্য হিসেবে। সব আমলেই সুবিধাভোগী তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ২০২০ সালের নভেম্বরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে অবসরে যান। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাকে একই বিভাগে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। এরপর রামেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিব তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিনসহ সাতটি পদে নিয়োগ দেন। সূত্র জানায়, অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ডিন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, নিয়োগ কমিটির সদস্য, সংবিধি কমিটির আহ্বায়ক, ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক, কলেজ পরিদর্শক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। শুধু তাই নয়, বিধি লঙ্ঘন করে রামেবির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ৬৯টি কমিটির আহ্বায়কও হয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তিনি একাধারে রামেবির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র ভিজিলেন্স টিমের সদস্য, নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ডের আহ্বায়ক অথবা সদস্য, প্রশ্নপত্র সেটার-মডারেটরসহ আর্থিক সুবিধা সংশ্লিষ্ট সব কমিটিতেই ছিলেন।
আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে নানা সুবিধাজনক পদে ছিলেন এমন নয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপির সময়েও তিনি মেডিকেল কলেজের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থেকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।
সব আমলেই সুবিধা নেওয়া ও সুবিধাজনক পদে থাকা প্রসঙ্গে রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি খালি এই সরকার আর বিগত সরকার না, তার আগের সরকার, মানে বিএনপির সময়ও দেখা গেছে আমি মূল পার্সন হিসেবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে কাজ করেছি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমি বিভিন্ন মূল বিষয়গুলো নিয়ে, আমি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি। এই সরকারের সময় আমাকে, আসলে কিছু কাজ আছে যেগুলো বিশেষ করে ডাক্তাররা যারা বুঝেন না বা আসতে চান না, মানে বিনা পয়সায় তো কেউ কাজ করতে চায় না। একটা মেডিকেল কলেজ চালাতে গেলে এখানে গবেষণা চালাতে হবে, এখানে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালাতে হয়, এজন্য আমাদের ইথিক্যাল রিভিউ কমিটি করতে হবে, রিসার্চ সেল করতে হয়। এসব প্রত্যেকটা কমিটির দায়িত্ব আমি বিএনপির সময়ে করেছি, আওয়ামী লীগের সময়ে করেছি। এসব কমিটিতে আসার মতো লোকজন, সংখ্যাও কম এবং আগ্রহও কম। এখন আপনি বিচেনায় নিবেন।’
রামেবির তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ডা. নওশাদ আলী বলেন, রামেবির আটজন ডিনের কাউকেই উপাচার্য অজ্ঞাত কারণে যোগ্য মনে করতেন না। রামেবির সব কাজ তাকে দিয়ে করাতেন। মাসুম হাবিবের পর ডা. মোস্তাক হোসেন উপাচার্য নিয়োগ পান। তিনিও জাওয়াদুল হককে দিয়ে সব কাজ করিয়েছেন। সব আমলেই তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন।
শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, আওয়ামী লীগের এমপি সাইফুজ্জামান শেখরের মালিকানায় থাকায় বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এমপিএইচ ডিপার্টমেন্টের কোর্সের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। এবার এই ক্ষমতাধর উপাচার্যের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।