মধ্যপ্রাচ্যে টানা যুদ্ধের পর বিরতি ঘোষণা করা হলেও জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক সবজির মৌসুম শেষ হওয়াসহ জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহনের খরচ বেড়েছে। যে কারণে সবজিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তি।
জানা যায়, দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া অনেক সবজির মৌসুম এখন শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে আবার সবজি উঠতে শুরু করবে। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন। বাজারে প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন। তারা বলেন, বাজারে মাছ, মুরগিসহ সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। গত কয়েক দিনের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে গেছে। নিত্যসামগ্রীর দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি।
গতকাল বগুড়ার ফতেহ আলী, রাজাবাজার, কলোনি, খান্দার ও বকশী বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুনের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। যা কয়েক দিন আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সবজির দামও চড়া।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে সবজির কেনা দাম আগের তুলনায় বেশি পড়ছে। এর মূল কারণ জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহনের খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া অনেক সবজির মৌসুম এখন শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে আবার সবজি উঠতে শুরু করবে। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে ছোট এবং বড় মাছের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এর পেছনে সরবরাহ ঘাটতি ও জ্বালানিজনিত পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। বাজারে বড় রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও একই চিত্র। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের পর থেকে সোনালি মুরগি এখনো উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা মিজানুর রহমান জানান, বাজারে এলেই খরচের হিসাব মিলছে না। মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সবজি কিনতেই এখন বেশি টাকা লাগে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানান তিনি।