বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। ২০১৪ সালে যাত্রা। প্রতিষ্ঠাকালীন ভিসি লুৎফর রহমানসহ এ পর্যন্ত পাঁচজন উপাচার্য নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে লুৎফর রহমান বাদে চারজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি ও অন্য অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার মধ্যে আবার দুজন কারাগারে রয়েছেন। বর্তমান ভিসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে নিয়োগসংক্রান্ত দুদকের একটি মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। চার্জশিট দেওয়ার পর কেউ এ ধরনের পদে থাকতে পারেন না। কিন্তু ইউনূস সরকার তাঁকে ভিসি পদে নিয়োগ দিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশের গুলিতে হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে পলাতক। এর আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল জলিল মিয়া চার বছর ভিসির দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুদকের মামলার আসামি। কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে মামলা বিচারাধীন। আরেক ভিসি অধ্যাপক ড. নুরন্নবীর বিরুদ্ধেও দুদকের মামলা রয়েছে। অন্য ভিসি অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ দুদক মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন।
এ অবস্থায় একজন সৎ উপাচার্য আশা করছেন বেরোবির শিক্ষার্থীসহ সব স্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহীসহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বেরোবিতে ভিসি পরিবর্তন হবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে জোর আলোচনা। যেকোনো সময় নতুন ভিসি যোগদান করতে পারেন, এমনটাই মনে করছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেরোবির ভিসি হতে বিভিন্নভাবে লবিং চালাচ্ছেন ডজনখানেক শিক্ষক।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ১ এপ্রিল পরিপত্র জারি করে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেককে। কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, ইউজিসির সদস্য (পাবলিক ইউনিভার্সিটি) অধ্যাপক মো. তানজিম উদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ। সদস্যসচিব করা হয়েছে উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে। সার্চ কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বেরোবির নতুন উপাচার্যের নাম নিয়েও কাজ চলছে বলে সূত্র জানান।
বেরোবির নতুন উপাচার্য হিসেবে যাঁদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাঁরা হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের (বিএনপি) সদস্য ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম ফারুকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোস্তাফিজার রহমান মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফকরুল ইসলাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মতিনুর রহমান। এ ছাড়া আলোচনায় আছেন বেরোবির তিন অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান, তাজুল ইসলাম ও ইলিয়াছ প্রমাণিক। বেরোবিতে উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সার্চ কমিটির সভাপতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ করেননি।