নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নৌযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে দেশে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের দপ্তর ও সংস্থা রয়েছে। শুধু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই প্রায় ১৬টি সংস্থা কাজ করছে। তারপরও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও অপূর্ণতা রয়ে গেছে। এ দায় কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয় বরং সংশ্লিষ্ট সবার। গতকাল রাজধানীর ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ১৬ মে পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিপদমুক্ত নৌযাত্রা, জানমালের সুরক্ষা’। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। নৌ খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মেধা, ধৈর্য ও ত্যাগকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো অনেকাংশে শ্রমনির্ভর। গার্মেন্টসশ্রমিক ও প্রবাসী কর্মীদের অবদান ছাড়া দেশের অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরের শ্রমজীবী মানুষেরাও নীরবে রাষ্ট্র গঠনে অবদান রেখে যাচ্ছেন। নৌপথের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সম্পদ হলো প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ। অথচ এই বিশাল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রয়েছে। আরও ১২ হাজার কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে এবং অতিরিক্ত সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে।
আসন্ন ঈদ সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যেও ইতিবাচক সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান প্রমুখ।