ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে দেশের জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে কিছুটা টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করলেও কোরবানির ঈদ ঘিরে রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে গতি আসতে শুরু করেছে। গত বছরের চেয়ে এবার এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত যোগ হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। কোরবানির ঈদ ঘিরে বিভাগের আট জেলার অর্থনীতিতে মোট যোগ হবে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে গবাদি পশুতে আসবে ১২ হাজার কোটি। এ ছাড়া মসলা, লবণ ও পশুর চামড়া, নতুন কাপড় ইত্যাদি খাতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতির খাতায় যোগ হবে। ফলে অঞ্চলটিতে অর্থনীতির চালিকাশক্তি বৃদ্ধি পাবে। এ তথ্য জানান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারি ও গৃহস্থরা গরু-ছাগল ও খাসি পালন করে থাকেন। ঈদের সময় এসব পশু বিক্রি করে তাঁরা আর্থিক সচ্ছলতার মুখ দেখেন। রংপুর মহানগরের লালবাগ, বুড়িরহাটসহ বেশ কয়েটি গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট সাইজের গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার, মাঝারি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার এবং বড় সাইজ ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের গরুর চাহিদা খুবই কম। ছোট এবং মাঝারি সাইজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি গরুর গড় মূল্য দেড় লাখ টাকা ধরা হলে ৫ লাখ গরুর বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রতিটি খাসি এবং ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। প্রতিটি ছাগল গড়ে ১৫ হাজার টাকা ধরা হলে ১০ লাখ খাসি-ছাগলের দাম হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা। তথ্যমতে প্রতিটি প্রাণীর মাংসে গড়ে মসলা লাগে ৫০০ টাকার। সে হিসেবে মসলা কেনাবেচায় যোগ হচ্ছে ৫০০-৭০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে একটি গরুর চামড়া সংরক্ষণ করতে লবণ লাগে ৫ থেকে ১৫ কেজি এবং ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৫ কেজি। গড়ে ৬ কেজি ধরা হলে চামড়া সংরক্ষণে লবণের প্রয়োজন পড়ছে ১০ লাখ কেজির ওপর। সে হিসেবে লবণ বিক্রি হবে ৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এ ছাড়া প্রতি পিস গরুর চামড়া গড়ে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হলে ৫ লাখ গরুর চামড়া বিক্রি হবে ৫০ কোটি টাকায়। ছাগলের চামড়া গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলে সেখান থেকে আসবে ১৫-২০ কোটি টাকা। গবাদি পশু, মসলা, চামড়া, লবণ সব মিলিয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঈদুল আজহায় বিভাগের আট জেলায় প্রায় ১৫ লাখ পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছিল। এবার তা সাড়ে ১৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। এবার রংপুর বিভাগে ২০ লাখের বেশি গরু, খাসি কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সূত্রমতে, মোট পশুর তিন ভাগের এক ভাগ হচ্ছে গরু এবং দুই ভাগ খাসি-ছাগল। সে হিসেবে এ বছর আট জেলায় সাড়ে ৫ লাখ গরু এবং ১০ লাখ খাসি-ছাগল কোরবানি দেওয়া হতে পারে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, ইতোমধ্যে বিভাগের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ ছোটবড় খামারি ২০ লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা, ভেড়া প্রস্তুত করেছেন।