স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গতকাল ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের ডিন অধ্যাপক আতিয়ার রহমান, মিটফোর্ড হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকারিয়া আল আজিজ।
হাম প্রতিরোধের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্টে মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক। ডেঙ্গুসম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাবের গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ সায়েম। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় সচেতনতার কথা বলেন। ইউনিসেফের সহযোগিতায় দেশের আক্রান্ত জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনগুলোয় ব্যাপকভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পর হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, বর্তমানে মাইকিং করে খুঁজে খুঁজে বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে যেসব চিকিৎসক নিগ্রহের শিকার ছিলেন, বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানান ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ও বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুস সালাম। ড্যাবের মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ রোধে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু করেছে। ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আবুল কেনানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সপ্তাহ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামীম আহমেদ।