নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। দ্বিতীয় দিনের ব্লকেড কর্মসূচি শেষে গতকাল বিকালে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ডুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করা হলো। রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি ডুয়েটে অনেক যোগ্য অধ্যাপক আছেন। আপনি সেখান থেকে আমাদের ভিসি নিয়োগ দিয়ে বাধিত করবেন। তিনি আরও বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির আওতায় অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও কমপ্লিট শাটডাউন অব্যাহত থাকবে।
কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণার পর ক্যাম্পাসের মূল ফটকসহ বিভিন্ন গেটে আরও বেশি পরিমাণ আসবাবপত্র দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। এর আগে ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার সর্বাত্মক ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন। দাবিগুলো হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ এবং রবিবারের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এদিকে, গতকাল দুপুরের পর ক্যাম্পাসে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে নবনিযুক্ত উপাচার্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এবং ডুয়েট ছাত্রদলকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন। তারা ‘দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই’, ‘বহিরাগত ভিসি মানি না’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
গত বৃহস্পতিবার সরকার অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। রবিবার নতুন উপাচার্য যোগ দিতে এলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা লোকজন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনায় গত সোমবার বিকালে গাজীপুর সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।