আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে মেয়েদের শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ বিষয়ে একটি অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা বলেন, নারীর শিক্ষা নিশ্চিত করতে কৌশলগত উদ্যোগ এবং সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন।
মালালা ফান্ডের অর্থায়নে এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বাস্তবায়নে পরিচালিত অদম্য প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপ আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত মিঠামইন উপজেলায় ৪০ মাস ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আলোচনায় ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রটেকশন অফিসার ফাতেমা খায়রুন্নাহার বলেন, জলবায়ুজনিত দুর্যোগের সময় অনেক পরিবার মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে না। এতে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মোশাররফ তানসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। তাই শিক্ষা নীতি, জলবায়ু অভিযোজন কৌশল এবং জেন্ডার সমতার লক্ষ্যগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক নিশাত সুলতানা বলেন, যেকোনো সংকটে প্রথম ধাক্কা আসে নারীদের ওপর। তাই মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় নীতি, বাজেট এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আলোচনায় জানানো হয়, অদম্য প্রকল্পের ফলে মিঠামইনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা প্রায় ৪৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক ঝরে পড়া শিক্ষার্থী আবার স্কুলে ফিরে এসেছে।
বক্তারা বলেন, মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিডি প্রতিদিন/আশিক