ব্রিটিশ কাউন্সিলকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শিক্ষা উদ্যোগের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। উদ্যোগ দুটি হলো গ্লোবাল এডুকেশন কোয়ালিশন এবং ইন্টারন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন টিচার্স ফর এডুকেশন ২০৩০।
এই সদস্যপদ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষাখাতে সংস্কার, সমতা ও উদ্ভাবনের প্রতি ব্রিটিশ কাউন্সিলের অঙ্গীকারকে আরও সুসংহত করেছে। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা (ইংরেজি ভাষা শিক্ষা) নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নীতিনির্ধারণ ও অংশীদারত্বে তাদের ভূমিকা আরও জোরালো হবে। এই জোটের সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল নিজেদের অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জোটের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে—যাতে দেশগুলো একটি সহনশীল ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
বর্তমানে এই জোটে সরকার, বহুপাক্ষিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতসহ ২০০–এর বেশি অংশীদার রয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারিতে শিক্ষাখাত যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল, তা মোকাবিলার লক্ষ্যে ২০২০ সালে গ্লোবাল এডুকেশন কোয়ালিশন চালু করে ইউনেস্কো। মহামারির পর জোটটির অগ্রাধিকার বদলেছে। এখন তারা কাজ করছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৪ অর্জনে। এর লক্ষ্য—সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং আজীবন শেখার সুযোগ তৈরি করা।
এছাড়াও, ব্রিটিশ কাউন্সিল যুক্ত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন টিচার্স ফর এডুকেশন ২০৩০–উদ্যোগের সাথে। এই জোট বিশ্বজুড়ে শিক্ষক স্বল্পতা সংকট মোকাবিলা ও শিক্ষকদের মর্যাদা ও তাদেরকে দেওয়া সহায়তা বাড়াতে কাজ করে। টাস্ক ফোর্স অন টিচার্স ফর এডুকেশন ২০৩০ অথবা টিচার্স টাস্ক ফোর্স একটি স্বাধীন বৈশ্বিক জোট। জোটটি শিক্ষাখাতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে, এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করা দেশগুলোকে নানভাবে সহায়তা দিয়ে থাকে।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, “শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে; তবে, শিক্ষার গুণগত মান ও সমতা নিশ্চিত করা এখনও জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়। ইউনেস্কোর বৈশ্বিক শিক্ষা উদ্যোগে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সদস্যপদ আমাদের স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সাথে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও তরুণদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী শেখার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।”
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন