শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩৫

করাতকলে বিনষ্ট পরিবেশ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

করাতকলে বিনষ্ট পরিবেশ
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা করাতকল

লাইসেন্সবিহীন করাতকলে ছেয়ে গেছে পঞ্চগড়। জেলা শহর থেকে মফস্বল সর্বত্র নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন করাতকল। এর চাহিদা মেটাতে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে বনভূমি। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। বনভূমির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল প্রতিষ্ঠায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।

সড়ক ঘেঁষে করাতকলগুলো গড়ে ওঠায় সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠার কারণে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করাতকল চালানোর বিধান থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় কল চালানো হয় গভীর রাত পর্যন্ত। জেলা শহরের ধাক্কামাড়া এলাকার পারভীন সুলতানা বলেন, ‘করাতকলের শব্দে রাতে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। অনেক করাতকল স্কুল-কলেজের সামনেই গড়ে উঠছে।’ পঞ্চগড় বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার পাঁচ উপজেলায় ২৩৮টি করাতকল রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১৫টির লাইসেন্স রয়েছে। বাকিগুলো পরিচালিত হচ্ছে অবৈধভাবে। তবে লাইসেন্স নিতে অফিশিয়াল জটিলতা এবং সময়ক্ষেপণের অভিযোগ করেছেন করাতকল ব্যবসায়ীরা। জেলা পরিবেশ পরিষদের সভাপতি তৌহিদুল বারী বাবু বলেন, ‘অবৈধভাবে যত্রতত্র করাতকল গড়ে উঠায় পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগেই গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এটা পরিবেশের জন্য হুমকি ডেকে আনবে।’ তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন বন্ধ করতে প্রশাসনকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধভাবে যেসব করাতকল এখনো চলছে তা বন্ধ করতে হবে।’ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও জেলা করাতকল স্থাপন এবং পরিচালনা সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘যেসব করাতকল লাইসেন্স ছাড়া চলছে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মন্তব্য