নওগাঁয় আমন ধান কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। পোকার উপদ্রব ও নভেম্বরের বৃষ্টিতে মাটিতে ধান শুয়ে পড়ায় ফলন কম হচ্ছে। শ্রমিক সংকটে বাড়তি মজুরি ও ধানের কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নওগাঁয় ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৪১ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। যা থেকে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৩০ টন ধান উৎপাদনের আশা। নভেম্বরের বৃষ্টিতে অন্তত ২ হাজার ৮৬১ হেক্টর আবাদ নষ্ট হয়। যা থেকে ১০ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদন হতো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল বলেন, বৃষ্টিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও পোকার উপদ্রব কমেছে। এ বছর ৯ লাখ ৮৫ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদন হবে। ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো প্রভাব পড়বে না। কৃষকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ধান আবাদে সার-কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিঘায় ২-৩ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকাতে স্প্রে করতে হয়েছে বাড়তি কীটনাশক। এ ছাড়া বৃষ্টিতে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন কমেছে ৪-৫ মণ। তা ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে ধানের দাম কমেছে ৭০ টাকা পর্যন্ত। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে অন্তত ১০০ টাকা। ফলে চাষিরা লোকসানের ভয়ে আছে।
চকগৌরি হাটে ধান বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের আলামিন বলেন, ১৪ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ ধানের আবাদ করেছি। প্রতি বিঘায় গড় ফলন হয়েছে ২০ মণ। বিঘায় খরচ পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ২০ মণ ধান ১ হাজার ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এ দামে ধান বিক্রি করে তারা লাভবান হতে পারবেন না। অন্তত ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ হলে খরচ বাদে কিছুটা লাভ থাকবে।
মহাদেবপুর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস আলম বলেন, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ ধান আবাদ করেছি। নভেম্বরের বৃষ্টিতে ১০ কাঠার ধান পুরোটা নষ্ট হয়ে যায়। এতে অন্তত ১২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই উপজেলার আখেড়া গ্রামের কৃষক প্রদীপ কুমার বলেন, ধানে প্রচুর পোকার উপদ্রব হয়েছে। গত বছরের তুলনায় তিন বার বাড়তি কীটনাশক স্প্রে করতে হয়েছে। এতে বিঘায় ৫০০ টাকার কীটনাশক বেশি লেগেছে। পোকার উপদ্রব হওয়ায় ফলনও হবে কম।
মান্দা উপজেলার মৈনম গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, এক বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ ধানের আবাদ করেছিলাম। বৃষ্টিতে পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়ে। এদিকে শ্রমিক সংকট হওয়ায় মজুরিও বাড়তি। নিজেকেই ধান কাটতে হয়েছে। ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কাটতে সময় বেশি লেগেছে। ফলন পেয়েছি মাত্র ১৬ মণ। ধান খাড়া থাকলে ফলন আরও বেশি হতো।