কুয়াশার চাদরে ঢাকা উত্তরের জনপদ লালমনিরহাট। সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডার তীব্রতা। উত্তরের জেলায় জেঁকে বসেছে শীত। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় আগাম শীতের দাপট দেখা যাচ্ছে এ অঞ্চলে।
সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মজীবী মানুষ বিশেষ করে দিনমজুর ও চালকরা পড়েছেন বিপাকে। রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গত শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে।
কুয়াশার কারণে দুপুরের আগে পর্যন্ত মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে বাস, ট্রাক। ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালাতে হয় বলে জানান চালকরা।
হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় স্থবিরতা নেমে এসেছে জনজীবনে। পেটের তাগিদে শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হচ্ছে দিনমজুর, কৃষক আর রিকশাচালকরা। কুয়াশার ঘনত্ব আর হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকলে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে এ অঞ্চলের মানুষ।
অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন ঠান্ডাজনিত রোগে। গত কয়েক দিনে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রায় অর্ধশত শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে জানা গেছে। শিশু ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে জায়গাসংকট।
সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের রিকশাচালক এমদাদুল হক বলেন, ঠান্ডার কারণে রাস্তায় যাত্রী নেই। এক ঘণ্টায় একজন যাত্রীও মেলে না। আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কালীগঞ্জের কাকিনা এলাকার দিনমজুর সোলেমান আলী বলেন, ‘সকাল ও আইতোত (রাতে) খুব ঠান্ডা নাগে। হামরা কাবু হয়া যাবার নাইকছি। হামার এত্তি ঠান্ডা দিনদিন বাইরবার নাইকছে।’ হাতীবান্ধার পারুলিয়া এলাকার আনিছা বেগম বলেন, ‘আইতোত জারের ঠ্যালায় নিনবারে না পাই। হামারগুলার খুব কষ্ট হবার নাইকছে। অনেক আইত পর্যন্ত আগুন তাপা নাগে। হামারগুলার তেমন ঠান্ডার কাপড়চোপড়ও নাই।’
চিকিৎসকরা বলছেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডার রোগ। হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেড়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই।
লালমনিরহাট সিভিল সাজন ডা. আবদুল হাকিম বলেন, শীতের এ সময়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু ও বৃদ্ধরা। রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশুদের কোনোভাবেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না। রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শনিবার লালমনিরহাট জেলায় ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। কুয়াশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।