ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল ইউপির সাবেক সদস্য জিতু মিয়া হত্যার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। গ্রেপ্তার ও হামলার ভয়ে পাড়ামহল্লা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় নারী ও শিশুরা আশ্রয় নিচ্ছেন স্বজনদের বাড়িতে। স্কুলে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র রায় জানান, গ্রামে এখনো উত্তেজনা আছে। অভিভাবকরা ফোনে জানিয়েছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা গ্রামে ফিরে আসবেন না এবং সন্তান স্কুলে পাঠাবেন না। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমার মা জানান, ‘গেরামে খুন হয়ছে তাই এখন আমরা গেরাম ছাইড়া অন্য এলাকায় আছি। আমরার ছেলে-মেয়েরে একা পায় তাহলে মারধর করতে পারে।’
ইউপি চেয়ারম্যান শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামে সংঘর্ষের পর কেউ মারা গেলে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাট করা স্বাভাবিক বিষয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্কুল-মাদ্রাসা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মানুষ ভয়ে যাচ্ছে না।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসহাক মিয়া বলেন, শিক্ষার্থী উপস্থিতি এত কম হওয়া উদ্বেগজনক।
নাসিরনগরের ওসি শাহিনুর ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি একটু খারাপ। পুলিশ মোতায়েন আছে। ঘরবাড়িতে আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ইউএনও শাহীনা নাসিরন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাব। সবার সঙ্গে কথা বলে শিশুদের স্কুলে ফেরানোর চেষ্টা করব। ১২ জানুয়ারি পূর্ববিরোধের জেরে জিতু মিয়া ও কুতুব মিয়ার পক্ষের লোকদের সংঘর্ষ হয়। নারী-শিশুসহ আহত হন ২৫ জন। মাথায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মারা যান জিতু মিয়া। সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি হামলা ও আগুনের ঘটনা ঘটে কয়েকটি বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। দিনেও মানুষের চলাচল কমে গেছে। অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ায় একাধিক পাড়ামহল্লা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।