টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এরপর দুই পাশে সংযোগ সড়কে সামান্য বালু ফেলেই ঠিকাদার লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাকা সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু পারাপার হতে পারছে না যানবাহন। চলাচলের দুর্ভোগ থেকে রেহাই মেলেনি স্থানীয় বাসিন্দদের। ভোগান্তি বেড়েছে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। ঝাওয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ব্রিজের পূর্ব পাড়ে টাঙ্গাইলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ২০১ গম্বুজ মসজিদ। প্রতিদিন বিশেষ করে শুক্রবারসহ ছুটির দিনে পর্যটক এটি পরিদর্শন এবং নামাজ আদায়ে আসেন। টানা দুই বছর ব্রিজ নির্মাণ চলমান থাকায় কোনো যানবাহন নদীর পশ্চিম পাড়ে যেতে পারে না। এখন মূল সেতু হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না। বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। নদীর পশ্চিম পাড়ে ব্যবসা কেন্দ্র ঝাওয়াইল বাজার এবং এর আশপাশে একটি বয়েজ ও একটি গার্লস হাইস্কুল, দুটি প্রাইমারি স্কুল, তিনটি মাদ্রাসা, দুটি ব্যাংক, একটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, তহসিল অফিস, পোস্ট অফিস ও তিনটি এনজিও অফিস রয়েছে। পূর্ব পাড়ে আছে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসা। ঝাওয়াইল বাজারে বিপুলসংখ্যক হাটুরে ছাড়াও হাজারো শিক্ষার্থী, অফিস কর্মচারী এবং পর্যটককে নদী পারাপারে নিদারুণ ভোগান্তি পোহাতে হয়।
টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতারা জানান, ঝিনাই নদীর এ ব্রিজ দুই জেলার আন্তঃসড়ক যোগাযোগমাধ্যম। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইলের পোড়াবাড়ী থেকে গোপালপুর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বাইপাস সড়ক তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পিংনা নামক স্থানে যুক্ত হয়েছে। আগে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন যাতায়াত করত। সেতু নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় এবং সামান্য কাজ ফেলে রাখায় টানা দুই বছর ধরে দুই জেলায় পণ্য পরিবহন, সড়ক পথে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সওজ মধুপুর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ জানান, ঝিনাই নদীর ঝাওয়াইল ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। উভয় পাশে কিছু খাস জমি জবরদখলে রয়েছে। এ জমি পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভূমি পুনরুদ্ধার হলে এপ্রোচসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে। জানা যায়, ২০২৪ সালের শুরুতে সেতু নির্মাণ কাজ উদ্বোধন হয়। কাজ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। ঠিকাদার কামাল হোসেন জানান, কাজের শুরুতেই চাঁদাবাজির শিকার হতে হয় ঠিকাদারকে। চাঁদা দাবিতে কর্মচারীদের কয়েক দফা মারপিট করায় কাজ কিছুদিন বন্ধ থাকে। এখন কাজ প্রায় শেষ। ফান্ড সংকটে নদীভাঙন থেকে ব্রিজ রক্ষায় ব্লক স্থাপন এবং অ্যাপ্রোচ সড়ক পাকা করা বাকি রয়েছে।