গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পাইকেরবাড়ী গ্রাম। মাদারীপুরের ঘটকচরে রবিবার বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন এ গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর থেকে পাইকেরবাড়ীতে চলছে মাতম। স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।
পাইকেরবাড়ী গ্রামের কলেজছাত্রী পান্না বাড়ৈ বলেন, আমাদের এলাকার পলাশ বাড়ৈর স্ত্রী দুলালী (৪২), জয়ন্ত বাড়ৈর স্ত্রী অমিতা (৫৩), প্রকাশ বাড়ৈর স্ত্রী আভা (৬৫), রঞ্জিত বাড়ৈর স্ত্রী শেফালী (৪৫) ও পংকজ বিশ্বাসের স্ত্রী কামনা (৫০) রবিবার ভোরে দিনমজুরের কাজ করতে মাদারীপুরে যান। সেখান থেকে ইজিবাইকে ফিরছিলেন তারা। পথে ঘটকচর নামকস্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা সার্বিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষ হয়। এ পাঁচ নারীসহ নিহত হন সাতজন। একই গ্রামের গৃহিণী কাজল বাড়ৈ বলেন, আমাদের এলাকার অনেকে দিনমজুরের কাজ করতে মাদারীপুরে যায়। রবিবার ভোরে দুলালী, অনিতা, আভা, শেফালী ও কামনা কাজ করতে গিয়ে ফিরে এলেন লাশ হয়ে। আমরা এলাকাবাসী নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
সাদুলাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সমর চাঁদ মৃধা খোকন বলেন, একই গ্রামের পাঁচজন নিহতের ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। লাশ রবিবার রাতেই বাড়িতে আনা হয়েছে। গতকাল হয়েছে তাদের শেষকৃত্য।
ঋণের দায় নিয়ে প্রাণ হারালেন চালক সাগর : মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, জীবিকা নির্বাহের আশায় ঋণ করে কেনা ইজিবাইকই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। ঋণের কিস্তি পরিশোধের আগেই রবিবার ঘটকচরে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ছয়জনের সঙ্গে প্রাণ হারান চালক সাগর ব্যাপারী। তাকে হারিয়ে দুই শিশুসন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্ত্রী মাহফুজা বেগম। সাগর মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণপাড়ার জসিম ব্যাপারীর ছেলে।