যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রফিকুল ইসলাম (৪২) নামে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা ঘাতক আবদুল আলিম পলাশকে (৩৫) ধরে গণপিটুনি দিলে তিনিও মারা যান। গতকাল দুপুরে সলুয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের বাড়িই যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামে। নিহত রফিকুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে। আর আবদুল আলিম পলাশ একই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বেলা আড়াইটার দিকে রফিকুল ইসলাম সলুয়া বাজারে তার মুদি দোকানের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। পথে সলুয়া কলেজের সামনে পৌঁছালে পলাশ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রফিকুলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলে রফিকুল মারা যান। ঘটনার পর এলাকাবাসী হামলাকারী পলাশকে ধরে গণপিটুনি দেয়। তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করীম জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। বিস্তারিত পরে বলা যাবে। এদিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকসেবীদের হামলায় আহত কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম মারা গেছেন। রাজধানীর গ্রিন রোডে নিউ লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তার মৃত্যু হয়। হামলা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আশরাফুল রায়পুর উপজেলার চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে ও ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৪ জানুয়ারি রাতে উত্তর চরবংশী গ্রামের পূর্ব ডালিকান্দি বিলে নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীসহ মামলায় অভিযুক্তরা আশরাফুলের ওপর হামলা করে। তারা তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। তাকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় ঢাকায়। এ ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি ১১ জনের নামে রায়পুর থানায় মামলা করা হয়। শাহিন বেপারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয় কিছুদিন আগে শাহিনসহ তিনজনকে মাদকসহ গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। শাহিন সন্দেহ করে আশরাফুল তথ্য দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেন। এর জেরে জামিনে মুক্ত হয়ে এসে সে সঙ্গীদের নিয়ে আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়।