ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ওয়াজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একটি ভবনের ক্লাসরুম ভেঙে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দোতলা ভবনের নিচতলার চারটি শ্রেণিকক্ষ ‘পরিত্যক্ত’ দেখিয়ে তা ভেঙে আটটি দোকানঘর নির্মাণ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভবনের দোতলায় নিয়মিত চলমান পাঠদান। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে বহুগুণ। এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ইউএনও শাহীনা নাছরিন কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক অঞ্জন কুমার বিশ্বাসকে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ১৯৯৯ সালে প্রতি তলায় চার কক্ষবিশিষ্ট দোতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আরেকটি চার তলা ভবন নির্মাণ করা হয়, যা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহারের কথা। নতুন চার তলা ভবন নির্মাণের পরই প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পুরোনো ভবনের নিচতলার শ্রেণিকক্ষগুলো ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করা হয়। এরপর চারটি ক্লাসরুম ভেঙে ফেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে আটটি দোকান। ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘স্কুলের আয় বৃদ্ধি করতে ভবনের নিচতলাকে পরিত্যক্ত দেখানো হয়েছে। নিচতলার চারটি ক্লাসরুম ভেঙে দোকান ও শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যান্টিন নির্মাণের কথা ছিল।’ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে কারও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। ইউএনও বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া ভবন কীভাবে ভাঙা সম্ভব! রেজল্যুশন এনে আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়েছিল। আমি তা করিনি। অবিলম্বে ভবন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া স্কুল ভবনের ওপর মোবাইল টাওয়ারটি দ্রুত সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষগুলোর দরজা-জানালা ইটের গাঁথুনি দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। ভবনের ঠিক ওপরের ছাদে ২৫ বছর ধরে মোবাইল কোম্পানির একটি টাওয়ার বসিয়ে ভাড়া নিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ১২ নভেম্বর ভূমিকম্পে ভবনটির পশ্চিম পাশে তিনটি বিমে ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা ফাটলের দেখা দিয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিদ্যালয়কে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার সুযোগ নেই।’ উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘ভবনটি সরকারি অর্থায়নে নির্মিত। ভবনের মূল নকশা পরিবর্তন করতে আমাদের কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ অনুমতি নেয়নি।’