ঠাকুরগাঁওয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে টাঙ্গন নদী পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ দুই ইউনিয়নের ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা সদর উপজেলার মাতৃগাঁও ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রতি দেয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি আজও, অভিযোগ এলাকাবাসীর। মাঝেমধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। প্রায় ৫০ বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ এলাকার বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, ওই স্থানে টাঙ্গন নদীর পূর্ব পাশে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়ন ও পশ্চিম দিকে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন। মাতৃগাঁও ঘাটে টাঙ্গন নদী পারাপারে বন্যার সময় নৌকা আর অন্য সময় বাঁশের সাঁকোই ভরসা সেখানকার মানুষের। দুই ইউনিয়নের ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে টাঙ্গন নদীর ওপর প্রায় ১ হাজার ফুট দৈর্ঘের একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেক বছর বন্যার পানিতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। বন্যার পর আবারও মাতৃগাঁও ঘাটে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে স্থানীয়রা।
মাতৃগাঁও গ্রামের আলিম উদ্দীন বলেন, ৫০ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারগুন ইউনিয়নের পোকাতি, উত্তর বোচাপুকুর, দক্ষিণ বোচাপুকুর, পূর্ব নারগুনসহ ১০টি গ্রাম ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাতৃগাঁও, রামপুর, মোহাম্মদপুর মধ্যপাড়া, বটতলি, পূর্ব মাতৃগাঁওসহ ১০ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, মোটরসাইকেল নিয়ে পার হচ্ছিলেন নারগুনের পোকাতি গ্রামের আবদুল্লাহ হক। তিনি বলেন, আমাদের দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্য এ বাঁশের সাঁকো স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কলেজ শিক্ষার্থী সাইফুল আলম বলেন, সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মোহাম্মদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব নজরুল ইসলাম বলেন, এ স্থানে একটি ব্রিজের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ অবধি তা হয়নি।
সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল বাবুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য এলজিইডিতে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাবুদ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের দুর্ভোগ নিরসনে এরই মধ্যে টাঙ্গন নদীর মাতৃগাঁও ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই এ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।