ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তারা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসন। নির্বাচন ঘিরে এ আসনে প্রতিবারের মতো এবারও অবাঙালি (বিহারি) ভোটারদের নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। তাদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নিচ্ছেন নতুন নতুন কৌশল। তবে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে নানা কথা দিলেও পরে তা রাখে না কেউ। ক্যাম্পবাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন এমন কাউকে ভোট দিতে চান তারা।
জানা যায়, অবাঙালিদের একটি অংশ ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে এসে সৈয়দপুরে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। অন্যরা স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে এখানকার ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। ক্যাম্পে বসবাসকারীরা ভোটার হন ২০০৮ সালে। বর্তমানে সৈয়দপুর পৌরসভার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই অবাঙালি। এর ফলে উর্দুভাষী ভোটাররা জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হিসেবে কাজ করবেন। সৈয়দপুর উপজেলায় ২২টি ক্যাম্পে যারা থাকেন তারা বিহারি বা উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। সেখানকার ভোটার ইয়াছমিন আরা বলেন, নির্বাচন আসায় প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রার্থী আসছেন ক্যাম্পে। ভোট শেষে আমরা বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও তাদের পাশে পাই না। ক্যাম্পের বাসিন্দা মাবুল হোসেন বলেন, ভোট দিতে যাব, তবে ভোট দেব এমন ব্যক্তিকে যিনি আমাদের ক্যাম্পের জন্য ভালো কিছু করবেন। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত।
ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা শ্রমিক নেতা আরমান হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছি। ছোট রুমে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। আমাদের সন্তানদের লেখাপড়ার কোনো বিদ্যালয় নেই। খেলার মাঠও নেই। তবে নির্বাচনের আগে কথা দিলেও কথা রাখে না কেউ। এবার যারা ক্যাম্পবাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন তাকে ভোট দেব।
উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, আমরা ক্যাম্পবাসী ভোটাধিকার পেয়েছি। ক্যাম্পের অনেক ছেলে-মেয়ে শিক্ষিত। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। ভোট এলে অনেকে আশ্বাস দেন, ক্যাম্পবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করবেন, বাড়ি করে দেবেন, রাস্তা দেবেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। আমরা বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দেশে উন্নতি হলেও আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি।