ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে ভোটের পরিবেশ, হারজিত নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। আলোচনা রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে। জেলার প্রায় সব কেন্দ্রই ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রমতে, কুমিল্লা সীমান্তবর্তী জেলা। এখানের ৫টি উপজেলা ভারত লাগোয়া। এখানে মাদকের আগ্রাসন নেতিবাচক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র সংগঠন ও যুব সংগঠন অনেক নেতার কাছে অবৈধ অস্ত্র রাখা প্রেস্টিজিয়াস বিষয়। রাজনৈতিক সংঘাতে নগরীতে এসব অস্ত্রের ব্যবহার বিভিন্ন সময় নজরে আসে। এ ছাড়া ৫ আগস্টের সময় লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রশাসন দাবি করেছে, ৪ শতাধিক অস্ত্রের মধ্যে ৯০ ভাগ উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া জেলার ৩৪৩ সন্ত্রাসীর তালিকা করেছে প্রশাসন। তাদের অনেকে খোলা মাঠে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আপাতত কম থাকলেও যেকোনো সময় মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তারা নগরীতে শোডাউন করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। মাদক নিয়ে খুন, সংঘর্ষ জেলার প্রায় নিয়মিত ঘটনা। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় মোট ভোটার ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৬০ জন। পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৭০ হাজার ২৩৮ জন, নারী ভোটার ২৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩০ জন। কুমিল্লার ১১টি আসনে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৪৯১টি। এ ছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলায় ৯২৫টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২৭টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনে ১৭টি, কুমিল্লা-২ ২৮টি, কুমিল্লা-৩ ২৫টি, কুমিল্লা-৪ ১৯টি, কুমিল্লা-৫ ১৭টি, কুমিল্লা-৬ ৩৩টি, কুমিল্লা-৭ ২৮টি, কুমিল্লা-৮ ১৩টি, কুমিল্লা-৯ ১৮টি, কুমিল্লা-১০ ১৮টি এবং কুমিল্লা-১১ আসনে ২৯টি কেন্দ্র রয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটির কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসা বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।
সুজন কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান টিটু বলেন, ভোটের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে মাদক আগ্রাসন ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ভোট কেন্দ্রে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের কর্নেল স্টাফ, কর্নেল কে এম মেহেদী হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন এলাকায় অপরাধ দমন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।