রংপুরসহ এ অঞ্চলে বেশ কিছুদিন ধরে লোডশেডিং চলছে। গতকালও বারবার লোডশেডিং করা হয়। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালের রোগীরা। জেনারেটর চালাতে ১০ বছর ধরে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ পাচ্ছে না রংপুরের সাত উপজেলা হাসপাতাল। এদিকে জেনারেটর চালু করতে না পারায় লোডশেডিংয়ের সময় অস্ত্রোপচার, ইসিজি, আল্ট্রা¯েœাগ্রামসহ সব ধরনের সেবা বন্ধ থাকছে। ভোগান্তি নিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা। রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া আছে জেনারেটর। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থায় হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য এসব জেনারেটর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১০ বছর আগে জেনারেটরের তেলের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। ১০ বছর আগে বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটের ব্যবহার করা হতো। তেলের বরাদ্দ না থাকায় জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে হাসপাতালের রোগীদের। যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হলে চিকিৎসক এবং রোগী দুই পক্ষই অসহায়।
এমনও শোনা গেছে রোগীর অপারেশন চলা অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে মাঝপথেই তা থামিয়ে দিতে হয়। অন্যথায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে তেলের টাকা নিয়ে জেনারেটর চালু করতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ফ্যান-লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে রোগীদের চরম অস্বস্থিতে পড়তে হচ্ছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর রোগী খালেদা বেগম বলেন, কারেন্ট গেলে ফ্যান চলে না।
এমওডিসি (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হালিম লাবলু বলেন, জেনারেটর যেটি আছে, সেটি জ্বালানি তেলের অভাবে বন্ধ। বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটর চালু করা যায় না। একই অবস্থা অন্য সাত উপজেলায়ও।
বর্তমানে তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। জেনারেটর চালু করতে না পারায় অপারেশন, ইসিজি, আল্ট্রা¯েœাগ্রাম, এসিসহ সব ধরনের সেবা বন্ধ থাকছে। লোডশেডিংয়ের সময় অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আর গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থার পাশাপাশি রাতেও কখনো কখনো অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে। এ ছাড়া অব্যবহৃত অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কোনো কোনো হাসপাতালের জেনারেটর বিকল হয়ে পড়েছে এমনটা শোনা যাচ্ছে।
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, রংপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর চালানোর জন্য সরকারিভাবে তেলের বরাদ্দ নেই। তাই জেনারেটর থাকলেও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।