বারবার জেল-জরিমানায়ও থামছে না পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক দিয়ে নকল দুধ তৈরি। ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে উপজেলার শিংগাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির অপরাধে ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক অসাধু ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল ও নানান ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে কৃত্রিম দুধ তৈরি করে আসছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর একই অপরাধে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি পুনরায় কারখানা খুলে দেদার এ বিষাক্ত কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে ফারুকের কারখানায় অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান। এ সময় নকল দুধ তৈরির নিষিদ্ধ সরঞ্জাম, ২০০ লিটার ক্ষতিকর গ্লুকোজ জেলি জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধের কারবার শুধু ফারুক হোসেনেই সীমাবদ্ধ নয়। চরভাঙ্গুড়া গ্রামের সঞ্জয় কুমার এবং কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশারকে একাধিকবার জেল-জরিমানা করা হয়েছে। অসাধু এই কারবারিরা বিভিন্ন পয়েন্টে এ অপকর্ম চালাচ্ছেন। ভাঙ্গুড়া বাজারের দুগ্ধ খামারি আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রকৃত খামারিরা সকালে ও সন্ধ্যায় দুধ সরবরাহ করেন। কিন্তু এখন বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে সারা রাত বিপুল পরিমাণ দুধ আসছে, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এসব সেন্টারে নজরদারি না বাড়ালে নকল দুধের কারবার রোধ করা সম্ভব হবে না।’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান জানান, ‘অভিযুক্তকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা ২০০ লিটার ক্ষতিকর জেলি ধ্বংস করেছি।’ এদিকে নকল দুধ তৈরির পুনরাবৃত্তিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা জানান, এখানে নকল দুধ কারবারিদের একটি সমিতি আছে। প্রশাসন তৎপর হলেই এটা নির্মূল করা সম্ভব।