ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা থেকে সরবরাহ করা পানি দুর্গন্ধযুক্ত, কালো ও নোংরা থাকাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ওই পানি একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী। তা দিয়ে রান্না, এমনকি গোসলও করা যায় না। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। বিশেষ করে যেসব বাড়িতে নিজস্ব টিউবওয়েল নেই, তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন পৌরসভার বাসিন্দা।
পৌরসভার শিবনগর বোষ্টমপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সকালে গোসল করতে গিয়ে দেখি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে। মাঝেমধ্যেই এমন হয়। ওই পানি ব্যবহার করা তো দূরের কথা, কাছেই যাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
ভুক্তভোগী স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত পৌরকর ও পানির বিল পরিশোধ করলেও তারা কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ করা পানি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। শিবনগর বোষ্টমপাড়ার গৃহবধূ সেলিনা খাতুন বলেন, পানির এ অবস্থার কারণে রান্নাবান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমরা ন্যূনতম সেবা পাচ্ছি না। শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী আশিক জানান, আমাদের মেসে কোনো টিউবওয়েল নেই। পুরোপুরি পৌরসভার পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অনেক দিন এমন যায়, যেদিন পানি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় গোসল না করেই কলেজে যেতে হয়। মধুগঞ্জ বাজার এলাকার লিপু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরেই পানির মান খারাপ। এক গ্লাস পানিতে যেন অর্ধেকই আয়রন ও ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধে ব্যবহার করা যায় না। পৌরসভা সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় ছয়টি পানির পাম্প রয়েছে। এগুলো চাপালি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা, নিশ্চিন্তপুর, আড়পাড়া, বাস টার্মিনাল ও বৈশাখী ফিলিং স্টেশন এলাকায়। এর মধ্যে আড়পাড়ার পানির পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এ ছাড়া পুরোনো পাইপলাইনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপে মরিচা ও ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পানির সঙ্গে বাইরের কাদা ও ময়লা মিশে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন তিন দফায় পানি সরবরাহ করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা এবং বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।
পৌরসভার প্রকৌশলী মো. কবির হাসান বলেন, আমাদের পৌর এলাকায় ছয়টি পাম্প রয়েছে, যার একটি বর্তমানে অচল। সেটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় পুরোনো পাইপলাইন ও লাইনে জমে থাকা ময়লার কারণে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গত রমজানের আগে কিছু এলাকায় পাইপ পরিষ্কার করা হয়েছিল। আমরা এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।