দিনাজপুর অঞ্চলে এবার ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক ও হারভেস্টারের সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে ধান কাটতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানে পোকার আক্রমণ কম ছিল। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে সেচ কম দিতে হয়েছে। তবে এখন ধান কাটার সময়ে বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে ধান পড়ে যাওয়ায় ফলন কম হয়েছে। পাশাপাশি ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি বেশি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ও জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটতে দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে। সুন্দরবন গ্রামের কৃষক দবিরুল ইসলাম বলেন, এবার ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। সংকটের মধ্যে খুব কষ্ট করে শ্রমিক সংগ্রহ করলেও একরপ্রতি ১৬ হাজার টাকায় বাধ্য হয়ে ধান কাটতে দেওয়া হয়েছে। না হলে পাকা ধান ঝরে পড়ছে। হারভেস্টারেও একই খরচ।
জামগ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, গতবার হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে নিয়েছিল একরপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এবার দিতে হচ্ছে ১৬ হাজার টাকা। কৃষি শ্রমিক ও হারভেস্টারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
সদরের কমলপুর ইউনিয়নে হারভেস্টার মেশিন নিয়ে এসেছেন নাটোরের একতারুল ইসলাম এবং সিলেটের কাশেম আলী। তারা জানান, সরকার নতুন করে ভর্তুকি দিয়ে হারভেস্টার মেশিন দিচ্ছে না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০ টন। এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় সরকারি ভর্তুকির হারভেস্টার মেশিন রয়েছে ৫৯৪টি।