Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ জুন, ২০১৯ ১৭:১০

পাহাড়ে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:

পাহাড়ে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে

পাহাড়ে মারাত্মকভাবে ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।এখন উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় পাহাড়বাসী। বর্ষার কারণে আতঙ্ক বেড়েছে ম্যালেরিয়ার। 

এরই মধ্যে রাঙামাটির জেলার বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলা এ রোগের ভয়াবহতা তীব্র হয়ে উঠেছে। পাহাড়ে ম্যালেরিয়া রোগের হার এতো বেশি বেড়ে গেছে যা মহামারি হিসাবে বিবেচনা করছে স্থানীয়রা। তবে এরই মধ্যে ম্যালেরিয়া রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমেই রাঙামাটি কয়েকটি উপজেলা ও বেশ কিছু ইউনিয়নে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা যায়। কিন্তু এ বছর বর্ষার শুরুর আগেই ম্যালেরিয়ার রোগির সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের ভুইয়াছড়ি, উজেংছড়ি, ক্যজেইছড়ি, মিতিঙ্গাছড়ি, রুইলুই, মাচালংসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে স্থানীয়রা। 

রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক পরিসংখ্যায় দেখা যায়, চলতি বছরের শুধু জানুয়ারি থেকে জুন মাসে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৩৯২জন। এছাড়া ২০১৬সালে রাঙামাটিতে ম্যালেরিয়া রোগির সংখ্যা ছিল-৯ হাজার ৬২৪ জন। ২০১৭ সালে এ রোগের সংখ্যা কমে দাঁড়ায়  ৮ হাজার ২৮৭ জনে। আর সর্বশেষ ২০১৮সালে ম্যালেরিয়া রোগির সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৪ জন। তাই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পাহাড়ে ম্যালেরিয়ার রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর হার একেবারে কমে গেছে। তবে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা সিভিল সাজেন ডা. শহীদ তালুকদার বলেন, রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এসব রোগিদের চিহ্নত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। জেলা স্থাস্থ্য বিভাগের বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুড়াছড়িতে ম্যালেরিয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নত করেছে। ম্যালেরিয়া সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসা সেবাই যৌথভাবে কাজ করছে ব্রাক ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ দল। এছাড়া উপজেলায়  স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহন করে দ্রুত এই রোগের প্রার্দুভাব কমানোর জন্য নিদের্শ দেন দেওয়া হয়েছে। 

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য