Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:৫৯
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:৩১

‘প্রেমের টানে বন্ধুর সাথে ঘর ছেড়ে লাশ হলো আসমা’

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :

‘প্রেমের টানে বন্ধুর সাথে ঘর ছেড়ে লাশ হলো আসমা’

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি পরিত্যক্ত রেলের বগি থেকে আসমা খাতুন (১৭) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের খবরে পঞ্চগড়ে তার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। সোমবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে বলাকা কমিউটার ট্রেনের পরিত্যক্ত বগির ভেতরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহটি পাওয়া যায়।

নিহত আসমা খাতুন পঞ্চগড় জেলা সদরের কনপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে। সে স্থানীয় খানবাহাদুর মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে। জানা গেছে, আসমার পাশের গ্রামের ভূট্টো তায়ারের ছেলে বাধনের সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রবিবার সকাল থেকে বাধনও নিখোঁজ । স্থানীয়দের সন্দেহ  বাধনই আসমাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। অষ্টম শ্রেণি থেকে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দুজনই একই মাদ্রাসায় একই ক্লাসে পড়াশোনা করতো। একই কথা জানিয়েছে আসমার বান্ধবীরাও।  গত রবিবার সকালে আসমার মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে গেলে বাবার ভোটার আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন নিয়ে নিখোঁজ হয় আসমা। একই সময়ে বাধনও নিখোঁজ হয় বলে জানিয়েছে বাধনের পরিবার। তারা বিয়ে করার জন্যই পালিয়ে যায় বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। কমলাপুরে দু’জনই কোনও চক্রের হাতে পড়ে আসমা খুন হতে পারে অথবা বাধনের সঙ্গীরা খুন করতে পারে বলে সন্দেহ করছে এলাকাবাসী। বাধনকে আটক করলেই এসব বিষয় পরিস্কার হতে পারে বলে দাবী তাদের । 

তবে বাধনের পরিবার আসমাকে নিয়ে যাবার ঘটনাটি সম্পুর্ণ অস্বীকার করেছেন। বাধনের মা বিলকিস খাতুন জানান, আসমার সাথে আমার ছেলের কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। রবিবার সকালে সে বাবা-মার সাথে ঝগড়া করে। পরে মাদ্রাসায় যাবার কথা বলে সে চলে যায়। পরে আর আসেনি । বর্তমানে সে কোথায় আছে তা তারা জানেন না। আসমা পঞ্চগড় জেলা সদরের কনপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে। সে স্থানীয় খানবাহাদুর মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে। এরপর পরিবারের আর্থিক অনটনে তাকে আর কলেজে ভর্তি করা হয়নি। গত সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, কমলাপুর রেলস্টেশনের বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি পরিত্যাক্ত বগি থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ব্যাগে মোবাইল নম্বর থেকে পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, নিয়ম অনুযায়ী জিআরপি থানায় মামলা হয়েছে। তারাই তদন্ত করবেন। যেহেতু নিহতের বাড়ি পঞ্চগড়ে, এজন্য তদন্তের সময় আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করেছি। কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এদিকে, এ ঘটনায় পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজারুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী আসমার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য