শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ আগস্ট, ২০২০ ১০:৫২
আপডেট : ৩ আগস্ট, ২০২০ ১০:৫৬

পানির দরেও বিক্রি হচ্ছে না কোরবানির পশুর চামড়া

বেনাপোল প্রতিনিধি

পানির দরেও বিক্রি হচ্ছে না কোরবানির পশুর চামড়া

উপজেলার শার্শা ও বেনাপোলে কোরবানির পশুর চামড়া পানির দরেও বিক্রি হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে চামড়া পুঁতে ফেলেছেন। আবার কেউ কেউ মুল্য ঠিক না করেই দিয়ে দিচ্ছেন পাইকারি ক্রেতাদের। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে গ্রামের অসহায়-দুস্থ এবং এতিমখানা ও কওমি হাফিজিয়া মাদ্রাসা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, গরীব ও দুস্থ মানুষের পাশাপাশি এতিমখানা, হেফজখানা ও কওমি মাদ্রাসাগুলোর অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখে কুরবানির চামড়া বিক্রির টাকা। এ অর্থ গরিব ছাত্রদের পড়ালেখা, থাকা-খাওয়ার পেছনে খরচ করা হয়। এ সহযোগিতা বরাবর পেলেও এবার কাঁচা চামড়ার দাম কম হওয়ায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

বারোপোতা গ্রামের আল্লাদি বিবি (৮৫) বলেন, প্রত্যেকবার ঈদের পর চামড়ার কিছু টাকা পাই। এবার পালাম না। চামড়া নাকি বিক্রি হচ্ছেনা। তাই এবার কেউ চামড়া বিক্রির টাকা দেয়নি। বড়বাড়িয়া গ্রামের ভিখারি সজ্জোত আলি (৯০) জানান, কোরবানির ঈদে অনেকেই চামড়া বিক্রির  টাকা দিতো, এবার কেউ তা দিলনা। 

বালুন্ডা হাইস্কুলের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আমি ছাগল কোরবানি দিয়েছি। কিন্তু চামড়ার ক্রেতা না পাওয়ায় মাটিতে পুঁতে ফেলেছি। বালুন্ডা গ্রামের রেজাউল বলেন, এবার চামড়া কিনেছি ১৬০টি। এর মধ্যে ৮৩টি গরুর চামড়া। প্রতিটি কিনেছি ৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা করে। আর ছাগলের চামড়া কিনেছি ১৫/২০ টাকা দরে। অনেকেই চামড়া দিয়েছে দরদাম ঠিক না করি।

সামটা মুসলিম এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাসার বলেন, এবার ঈদে ২৭৭টি চামড়া পেয়েছি কিন্তু চামড়া কেনার জন্য কোনও লোক না পেয়ে এতিমখানার খরচে একজন আড়তদারকে দিয়েছি। তারাও কোন দাম বলেনি। পরে বাজার দর অনুযায়ী টাকা দেয়া হবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন।

টেংরা গ্রামের আজিবর রহমান জানান, তিনি ৮২ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৩০০ টাকায়। নাভারন বাগআচড়া বেনাপোল সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, কোরবানির ষাঁড়ের মাংস হয়েছে ৬ মন, অথচ তার চামড়া বিক্রি করলাম ৪০০ টাকায়। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর