ভোলায় নবজাতককে গলা কেটে হত্যার পর লাশ খালে ফেলে দেওয়ার দায়ে শিশুটির নানাকে ১৫ বছর এবং নানিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ভোলার চরফ্যাশন চৌকি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন এই রায় প্রদান করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর চরফ্যাশন উপজেলার হাজারিগঞ্জ এলাকার খালের মধ্যে একদিন বয়সী একটি শিশুর গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় চরফ্যাশন শশিভূষণ থানার এসআই কমলেশ দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ লাশের ডিএনএ টেস্ট করে জানতে পারে মৃত শিশুটি ওই এলাকার নুরুল ইসলাম মাঝির অবিবাহিত মেয়ে সুলতানা বেগমের সন্তান। তদন্তে জানা যায়, অবিবাহিত মেয়ের সন্তান হওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে নুরুল ইসলাম শিশুটির গলা কেটে হত্যা করে এবং লাশটি পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেন। নুরুল ইসলামের স্ত্রী, সুলতানার মা রুপিয়া বেগম এই কাজে সহায়তা করেন।
এরপর মামলায় নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী রুপিয়া বেগম এবং সুলতানাকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। মামলার শুনানিকালে সুলতানা, নুরুল ইসলাম এবং রুপিয়া বেগম আদালতে তাদের দোষ স্বীকার করেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, নবজাতককে হত্যার দায়ে নুরুল ইসলামকে ১০ বছর এবং লাশ গুম করায় আরও ৫ বছর, মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করায় নুরুল ইসলামের স্ত্রী রুপিয়া বেগমকে ৪ বছর এবং লাশ গুমে সহায়তা করায় আরও ১ বছর, মোট ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নবজাতকের মা সুলতানা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মামলায় সরকার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এনামুল হক রায়হান।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল