৩১ আগস্ট ১৯৭১, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার করচাকেলী এবং জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসী গ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই নেমে আসে মৃত্যুর ছায়া। অল্প সময়ের মধ্যে দুই গ্রামের কাছাকাছি স্থানে শুরু হয় নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যেখানে শতাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। এই গণহত্যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ভয়াল অধ্যায় হিসেবে লেখা আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, গণহত্যার দুই দিন আগে দুইজন রাজাকার গ্রামে গিয়ে শান্তি কমিটিতে যোগদানের প্রলোভন দেখায়। গ্রামের মানুষ প্রত্যাখ্যান করলে তারা হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে ৩১ আগস্ট, পাকবাহিনী জগন্নাথপুর থেকে নৌকায় ভাড়া করে গ্রামে প্রবেশ করে। গ্রামবাসীকে ‘শান্তি কমিটির সভা’ বলে বাজারের হাইস্কুল মাঠে জড়ো করা হয়। স্কুলের দুটি কামরায় বৃদ্ধ ও যুবকদের আটকে নির্যাতন চালানো হয়। তথ্য না পেয়ে তাদের পৃথক নৌকায় তুলে নিয়ে গিয়ে রসুলপুর ও করচাকেলী গ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয়। খাল-পুকুরের পাড় রক্তে ভরে যায়, লাশে ভর্তি হয় গ্রাম।
হত্যাকাণ্ডের পর পাকসেনারা বাড়িঘর, দোকান ও বাজার পুঁড়িয়ে দেয়। শহীদদের মধ্যে ছিলেন শ্রীরামসী হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ধর্মীয় শিক্ষক, স্থানীয় তহশীলদার, সহকারী তহশীলদার, পোস্টমাস্টার, ইউপি সদস্য, ডাক্তার, ব্যবসায়ী এবং অজ্ঞাতনামা শতাধিক মানুষ। তবুও কয়েকজন প্রাণে বেঁচে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী রসুলপুর গ্রামের আর্শ্বদ আলী জানান, ‘দুই স্থানে এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। স্কুলে বেঁধে রাখার পর পাশেই মানুষকে হত্যা করা হয়। তিনদিন গ্রামের কেউ যাননি।’
শ্রীরামসী শহীদ স্মৃতি সংসদের সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, ‘রাজাকারদের সহায়তায় পাকসেনারা এই নির্মম গণহত্যা চালায়। নারীকেও তুলে নিয়ে গেছে, সব পুঁড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক মাস পরও অনেক হাড়-গুড় পাওয়া গেছে। আমরা প্রতি বছর শহীদদের স্মৃতিতে গণহত্যা দিবস পালন করি। তবে, রসুলপুর স্পট এখনও অরক্ষিত।’