কনকনে শীত নিয়ে এসেছে হিমেল হাওয়া। ঘরের বাইরে বেরোলেই সেই হাওয়া শরীরে কাঁপন ধরায়। এমন আবহাওয়ার মধ্যে শনিবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রানার্স কমিউনিটির (বিআরসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার তিতাস নদীর প্রথম সেতু থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
সুস্থ জীবনধারা ও মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে অনুষ্ঠিত হয় হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। এতে ভারত, জাপান ও নেপাল, ডেনমাকের্র চারজন বিদেশি দৌড়বিদসহ বিভিন্ন বয়সী মোট ৩৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
দৌড়কে সুস্থতার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রানার্স কমিউনিটি (বিআরসি) জানান, চার পর্যায়ের দূরত্বে এই হাফ ম্যারাথন দৌড় হয়। এর মধ্যে ছিল ২ কিলোমিটার, ৫ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার ও ২১ কিলোমিটার।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দৌড়বিদরা তিতাস নদীর প্রথম সেতুর ওপর জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল ৬টায় প্রথমে ২১ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারীরা গন্তব্যের উদ্দেশে দৌড় শুরু করেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে ৫ ও ১০ কিলোমিটারের দৌড়বিদেরা শুরু করেন। সর্বশেষ সকাল ৭টায় শিশুদের দুই কিলোমিটারের দৌড় শুরু হয়। ২১ কিলোমিটার দৌড়ে অংশ নেন পুরুষ ৬৪ জন ও নারী একজন। ১০ কিলোমিটারে পুরুষ ১৬৬ জন ও নারী দুজন। ৫ কিলোমিটারে পুরুষ ৬৪ জন ও নারী ১০ জন। ২ কিলোমিটার দৌড়ে ৪৩ জন শিশু অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী আরমান চৌধুরী ২১ কিলোমিটার দৌড় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে শেষ করেন।
রানার্স কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ‘শরীর সুস্থ রাখতে’ স্লোগান নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সংগঠনের প্রধান উদ্যোক্তা অলি আহাদ বলেন, দৌড়ের মাধ্যমে সুস্থ, সচেতন ও রোগমুক্ত নাগরিক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
শহরের শিমরাইলকান্দি তিতাস প্রথম সেতু এলাকার উত্তর পাশে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রানার্স কমিউনিটির উপদেষ্টা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দিলারা আক্তার খান। অংশগ্রহণকারীদের জন্য শুভেচ্ছা স্মারক, সনদ, টি-শার্ট ও সকালের নাশতার ব্যবস্থা ছিল। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান। অর্জনকারীদের ট্রফি ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এ আয়োজন বাস্তবায়নে ১৩টি প্রতিষ্ঠান সহায়তা দেয়। আয়োজনে কাজ করেন ৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচ্ছন্নতায় সহায়তা করে বিডি ক্লিন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া