চাঁদপুরে জেলার দুটি সেচ প্রকল্প এলাকায় আলু রোপনে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জমি প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষি বিভাগ এবছর ৭ হাজার ২শ" হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
কৃষকরা জানিয়েছে, এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক তাদের জমিতে ধান আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরেজমিন চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় দেখা গেছে, অধিকাংশ কৃষক মাঠে আলু রোপনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে ব্যস্ত কৃষকরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কোন কৃষক শ্রমিকদের নিয়ে আলু রোপন করছেন। এভাবেই ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে কৃষকদের।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর আলুর আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ২শ" হেক্টর জমিতে। এবছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২শ" হেক্টর। তবে আবাদের পরিমাণ আরো কিছুটা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপন সম্পন্ন হয়েছে। চাঁদপুর জেলায় সবচাইতে বেশি আলুর আবাদ হয় মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। ২য় অবস্থান রয়েছে কচুয়া এবং ৩য় অবস্থানে চাঁদপুর সদর রয়েছে। এই ৩টি উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়।
সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে কৃষক ইসমাইল হোসেন ও সুরুজ মিয়া বলেন, গত বছর আলুর ভাল দাম পাইনি। তবে আমাদের জমি গুলোতে এসময় আলু ছাড়া অন্য ফসল কম হয়। যে কারণে বাধ্য হয়ে আলু চাষ করতে হচ্ছে। এবার তারা ফলন ভালো ফলন হওয়ার আশা করছেন। অপরদিকে শাহমাহমুদপুর, আশিকাটি, বাগাদি, রামপুর, মৈশাদি ও বালিয়া ইউনিয়নের উচুঁ জমিগুলোতে আলু রোপন শুরু হয়েছে। সোবানপুর গ্রামের কৃষক হামিদ মুন্সী বলেন, আমরা এবছর আগাম আলু রোপন শুরু করেছি। কারণ বৃষ্টি কিংবা কুয়াশার কারণে আলু চাষে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। আগে উৎপাদন হলে ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে।
এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার উঁচু জমি, নদীর তীর এলাকা ও চরাঞ্চলে আগাম জাতের আলু বীজ রোপন শুরু হয়েছে। এখন থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আলু রোপনের কাজ।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, অর্থকরী ফসল হিসেবে আলুর চাষ এই এলাকায় অত্যন্ত লাভজনক। এখানকার অধিকাংশ কৃষক আলু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। সেচ প্রকল্প এলাকায় আমরা উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে আছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর আলুর বাম্পার ফলনের আশা করছি। কৃষকদের উচ্চফলন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, বীজ সংগ্রহে পরামর্শ, সুষম মাত্রায় সার, কীটনাশক ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলের কৃষক আলমগীর বেপারী ও ওয়াসিম সরকার জানান, আগাম জাতের আলু চাষে শ্রম বেশি হলেও, বাজারে বিক্রি করে লাভ বেশি। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠের কাজে নেমেছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, এবছর আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার হেক্টর কমেছে। এর কারণ গত বছর কৃষকরা আলুর ভালো দাম পায়নি। স্বাভাবিকভাবে যেকোন ফসলের দাম ভালো না পেলে কৃষকের ওই ফসলের প্রতি আগ্রহ কমে। সদরের একজন কৃষক গতবছর ১০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করলেও, এবছর করেছে ৫ হেক্টর জমিতে। বাকি ৫ হেক্টরে তিনি বোরো ধানের আবাদ করবেন। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে এবছরও আলুর ফলন ভালো হবে বলে আশা করেন।
বিডি প্রতিদিন/এএম