ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানোসহ বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ছাত্রীকে অশালীন কাজের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নে নাসিরনগর-হবিগঞ্জ সড়কে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলে অশালীন কাজ করতে বাধ্য করে মাদ্রাসার সুপার জহিরুল ইসলাম। এমনকি যারা এসব ফাঁদ এড়িয়ে গেছে তাদের বার বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য করানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় আমাদের উত্তীর্ণ করে বেশি নম্বর দেওয়ার কথা বলে অশালীন প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। হুজুর আমাদের শরীরে হাত দেন। নির্বাচনী পরীক্ষা না দিয়েই আমাদের দাখিল পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন বলে কুপ্রস্তাব দিত। বিনিময়ে হুজুরের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হবে বলে জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই। ভর্তি পরীক্ষা, বেতন, রেজিসেস্ট্রশন, ফরমপূরণ, প্রবেশপত্রসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি টিউশন ফি, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও দরিদ্র তহবিলের টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মানববন্ধনে দাবি করেন শিক্ষকরা।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ সোহেল আবদাল বলেন, হুজুরের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ আমরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত ও মৌখিকভাবে শুনেছি। তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাসরিন জানান, ছাত্রীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল