নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরকামালদী গ্রামে জাতীয় পার্টির নেতা মো. ওয়াজকুরুনীর বিরুদ্ধে বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট, নারী কেলেঙ্কারি ও মাদক কারবারসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী- চরকামালদী গ্রামের বাসিন্দা জাহান আলীর ছেলে ওয়াজকুরুনী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। চরকামালদী গ্রামের একটি ব্যাটারি ফ্যাক্টরি থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী চৌড়াপাড়া পাঁচআনি পাড়া গ্রামের রহিম মিয়ার বাড়িতে লুটপাটের ঘটনায় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গবাদিপশু লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ- তিনি স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্যে আশ্রয় দিয়ে মাসিক চাঁদা আদায় করছেন, যার ফলে এলাকায় মাদক ব্যবসা বেড়েছে। পাশাপাশি একটি মৎস্য খামারের আড়ালে তার নেতৃত্বে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে, যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বহিরাগতদের আনাগোনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চরকামালদী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন- ওয়াজকুরুনী ও তার সহযোগীরা রাতের বেলায় বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং নারীদের কু-প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি অটোরিকশা চুরির ঘটনায় তাকে জড়ানোর অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় ছাত্রদলের এক নিরীহ নেতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয় নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তা দলের জন্য লজ্জাজনক এবং তদন্তসাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে মো. ওয়াজকুরুনীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তালতলা ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সেলিম হোসেন জানান, অটোরিকশা চুরির মামলায় অভিযুক্ত নাঈম ১৬৪ ধারায় ওয়াজকুরুনীর বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় তাকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কাগজ পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ