দেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত হলো কুমিল্লায়। প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পরিচালিত পেট্রোলিয়াম ডিপোর কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বুধবার কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মগবাড়ি চৌমুহনী এলাকায় ডিপোটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ডিপোটি সম্পূর্ণ অটোমেটেড ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। জ্বালানি গ্রহণ থেকে বিতরণ—সব পর্যায়েই থাকবে প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয়তা। এতে মানবিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ডিপোর উদ্বোধন করেন বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খাঁন, বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিচালন) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ শ্যামল ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। সভাপতিত্ব করেন পদ্মা অয়েল কোম্পানি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান।
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, এটি কুমিল্লা ও দেশের জন্য আনন্দের দিন। দেশে এই প্রথম অটোমেটেড তেলের ডিপো চালু হলো। এখানে ট্যাংক ট্রাকে তেল লোডের সময় কোনো ধরনের কম-বেশির সুযোগ থাকবে না। কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তেল সরবরাহ হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝামাঝি অবস্থানে ডিপোটি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে।
স্থানীয় ডিলাররা বলছেন, নতুন এই ডিপো কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য বড় স্বস্তি। ডিলার তাজুল ইসলাম ও কামাল হোসেন জানান, আগে চাঁদপুর বা চট্টগ্রাম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তেল আনতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি কমবে, সড়ক সমস্যা বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।
ডিপোটির তত্ত্বাবধান করবে পদ্মা অয়েল কোম্পানি পিএলসি। বিপিসির বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি আলাদাভাবে তাদের ডিলারদের মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করবে। চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আসবে এই ডিপোতে।
প্রায় ১৬ দশমিক ১৬৪ একর জায়গাজুড়ে স্থাপিত ডিপোটিতে ১৯ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পেট্রোল ও ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অকটেন সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল গ্রহণের ফলে পরিবহন ধর্মঘট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তেল চুরি ও অপচয়ের মতো অভিযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন