‘তেভাগার চেতনা ভুলি নাই, ভুলবো না’ এই স্লোগানকে ধারণ করে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় তেভাগা দিবসে শহীদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের চেন্তু বটতলায় তেভাগা চেতনা পরিষদের উদ্যোগে শহীদদের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য কমরেড মো. আলতাফ হোসাইন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ও নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু, সাংবাদিক আসাদুল্লাহ সরকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দিনাজপুরের সভাপতি সুলতান কামাল উদ্দীন বাচ্চু, সিপিবির দিনাজপুর সদর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী দুর্যোধন রায় দুর্জয়, খেলাঘর দিনাজপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রমথেশ শীল, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজিব কুমার রায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভাবনা’ (সমাজ ও মানবিক বিকাশ)-এর পক্ষে শিশির শাহ ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা বলেন, অবিভক্ত বাংলার ইতিহাসে কৃষক সংগ্রামের ইতিহাসে তেভাগা আন্দোলন আজও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে। বাংলায় যে তিনটি বড় ধরনের কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল, তার মধ্যে সবচাইতে উজ্জ্বলতম অধ্যায় হলো তেভাগা আন্দোলন। তবে এই আন্দোলনের প্রায় ৮০ বছর পরও কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত। তারা সার বীজ-কীটনাশক-পানির মতো জরুরি কৃষিপণ্য সহজ শর্তে ও কমমূল্যে পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালের ৪ জানুয়ারি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউপির তালপুকুর-বাজিতপুর গ্রামে তেভাগা আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন কৃষক শিবরাম মাঝি ও সমিরউদ্দিন। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীন হন খুকিরাম মার্ডি, খিলুহাসদা, পরেশ মহন্ত, দায়ারামসহ ছয় জন কৃষক ও খেতমজুর। এছাড়া তেভাগা আন্দোলন চলাকালে দিনাজপুরের অন্যান্য এলাকায় গুলিতে প্রাণ হারান ১৬জন কৃষক-খেতমজুর ও বর্গাচাষী।
বিডি প্রতিদিন/কামাল