নেত্রকোনায় পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে তার স্বজনরা। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের রাতভর দেনদরবারে হাতকড়া উদ্ধার করা হলেও আসামি পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ আসামির মা রুবিনা আক্তারকে (৪২) আটক করে থানা হেফাজতে নেয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার নূরুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বুধবার দুপুরে জানান, অপহরণ মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে রাজশাহী থেকে পুলিশ নেত্রকোনায় আসে। সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় আসামি রবিন মিয়াকে (২২) আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, তবে তার মায়ের সহযোগিতায় স্বজনরা আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। রবিন মিয়া উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের নূরুলিয়া গ্রামের মুজিবুর মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে রবিন মিয়া রাজশাহীর একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত বছরের নভেম্বরে তারা পালিয়ে এসে নেত্রকোনায় অবস্থান করে। একপর্যায়ে রবিনের পরিবার বিষয়টি মেনে নিলে তারা বাড়িতেই দাম্পত্য জীবন শুরু করে। এদিকে মেয়ের বাবা তার এলাকার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাজশাহীর থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার ও আসামি ধরতে নেত্রকোনায় আসে। সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার রাতে রবিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে এবং হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় রবিনের পরিবারের ডাকচিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি করে প্রেমিক যুগলকে ছিনিয়ে নেয়।
পরে চল্লিশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ রাতভর দেনদরবার করলেও যুগলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তারা পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। বুধবার ভোরে পরিস্থিতি শান্ত হলে রবিনের মা রুবিনা আক্তারকে আটক করে সদর থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
চল্লিশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, রবিন রাজশাহীর একটি মেয়েকে পরিবারের অমতে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। পুলিশ তাকে আটক করে মেয়েকে উদ্ধার করলেও পরে স্থানীয় লোকজন তাদের ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ অনুরোধ জানালে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়, তবে সফল হওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি আল মামুন সরকার বলেন, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রবিনের মা আটক রয়েছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ