একদিকে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের পানি কমছে, অন্যদিকে চলছে জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ। কেউ ধানের চারা রোপন করছে। কেউ করছে সবজির আবাদ। এভাবে যার যার মতো ব্যস্ত সময় পার করছে। কিষাণ-কিষাণীদের এখন দম ফেলার সময় নেই। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমার সাথে পাল্লা দিয়ে চাষাবাদ শুরু হয়েছে জলেভাসা জমিতে। তাই এমন ব্যস্ততা থাকবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত রাঙামাটির ৭টি উপজেলায় চলছে বোরধান চাষ।
কৃষকরা বলছেন, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের বুকে অনেকটা দেরিতে ভেসে উঠেছে ডুবোচর। তাই দেরিতে চলছে চাষাবাদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার সদর, বরকল, বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই, লংগদু, নানিয়ারচর ও জুরাছড়ি উপজেলায় জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছে কিষা-কিষাণীরা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাঙালিরাও করেন এ জমিতে চাষাবাদ। শুধু ধান নয়; রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের ডুবোচর কিংবা জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ হয় ধান, তরমুজ, ভুট্টা, আখ আর হরেক রকম সবজি।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার স্থানীয় কৃষক তৌফাজ্জল হোসেন বলেন, রাঙামাটি বেশির ভাগ কৃষক জলেভাসা জমির উপর নির্ভরশীল। পানি কমতে শুরু করলে চাষাবাদের প্রস্তুুতি শুরু করেন কৃষকরা। মূলত নভেম্বর মাস থেকে বোরোধান চাষ শুরু হয়। কিন্তু এবার একটুুু দেরিতে শুরু হয়েছে চাষাবাদ। কারণ কাপ্তাই হ্রদের পানি কমেনি। তাই জমিও ভেসে উঠেনি। কিছু কিছু ভেসে উঠেছে সেখানে চলছে চাষাবাদ। ধান পাকার আগে কালবৈশাখী শুরু হয়ে গেলে সব পরিশ্রম জলে চলে যাবে।
একই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইয়াকুব আলী। তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা জলেভাসা জমিতে বোর ধান চাষাবাদ করে আসছি। শুধু ধান নয়, বিভিন্ন রকম সবজি চাষও করে থাকি। লাভও অনেক হয়। তাই প্রায় সব কৃষক জলেভাসা জমির অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদের পানি স্বাভাবিক থাকায় এবার চর ভেসে উঠেছে কম। এখনো অনেক জমিতে পানি আছে। তাই কৃষকরা সঠিক সময় চাষাবাদ করতে পারেনি। এবার যেহেতু দেরিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে ফসল তোলার আগেই কালবৈশাখী শুরু হয়ে যাবে। আর ঝড় হলে ব্যাপকভাবে ক্ষতি হবে ফসলের।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমির পরিমাণ নির্ভর করে হ্রদের পানি উঠানামার উপর। পানি কমতে থাকলে জমি ভেসে উঠে। এরপর চাষাবাদ শুরু হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ধান রোপন শুরু হয়েছে।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রাপ্ত বয়স্ক চারা রোপনের পরার্মশ দেওয়া হয়েছে। যাতে ধান-তরকারি আবাদ হয়। ফলনও যাতে ভাল হয়, সে বিষয়েও কৃষকদের পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছু জমি পরিদর্শন করেছি। কাউখালী ও রাজস্থলী উপজেলা ছাড়া রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলায় এ বোরো ধান চাষ হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে চাষকৃত জমির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কারণ কৃষকরা জলেভাসা জমিতে চাষাবাদে ব্যাপক আগ্রহী।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ