নেত্রকোনাবাসী নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাবেক শিক্ষক ও সমাজকর্মী এবং সাবলম্বী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক বেগম রোকেয়ার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
বিদেশের মাটিতে ইন্তেকালের পর শনিবার রাতে তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নেত্রকোনা শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান।
নাগরিক সমাজের আয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী সংগঠন, এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। অভিভাবক হারানোর বেদনায় নারী উদ্যোক্তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বেগম রোকেয়া ১৯৪৮ সালের ১৭ মে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর পারিবারিক চাপে বাল্যবিবাহে আবদ্ধ হন। দুই কন্যাসন্তানের জন্মের পর তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর নিজ উদ্যোগে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে ১৯৬৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।
দীর্ঘ ১৬ বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৫ সালে তিনি সাবলম্বী নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের ভরসাস্থল হয়ে উঠেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তিনি অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কাজের সুবাদে বিশ্বের ২০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেত্রকোনা পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া গত ৩০ জানুয়ারি দুপুরে সুইডেনের স্টকহোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল