কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে নতুন বসতি গড়ে তুলেছে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট চক্র। চক্রটি পাহাড় কেটে তৈরি করা বসতিতে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এমন তথ্যের পর যৌথবাহিনীর অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে অন্তত ১ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বসতি ভাড়া দেওয়া মালিক সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে অর্থদণ্ড এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উখিয়ার বালুখালীর মরাগাছতলা এলাকা চারপাশে পাহাড়ঘেরা হলেও ভেতরের চিত্র ছিল ভিন্ন। পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিনশো অবৈধ বসতি। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে হাজারো রোহিঙ্গা বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র এসব বসতিতে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করতো। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় মাদক ব্যবসাও চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে মরাগাছতলা এলাকা ঘিরে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী সদস্যরা। অভিযানে বসতিগুলোতে তল্লাশি চালানো হলে শত শত রোহিঙ্গা বেরিয়ে আসেন। অনেকেই ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। তবে সাড়ে তিনশো বসতি থেকে প্রায় ১ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।
কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আটক রোহিঙ্গাদের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের মাধ্যমে পুনরায় নিবন্ধিত ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযানে আটক রোহিঙ্গারা আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত, নাকি নতুন করে অনুপ্রবেশকারী, তা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর ৮ লাখ অবস্থান করছে। গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারিতে বার্মা কলোনিসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল যৌথ বাহিনী।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক রোহিঙ্গারা কেউ নিবন্ধিত নন। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এক বছর ধরে এই রোহিঙ্গারা পালংখালী ইউনিয়নে বন বিভাগের জমিতে বসবাস করছে।
বিডি প্রতিদিন/কামাল