বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের তালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীতেও। দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র দুবলার চরের চারটি পল্লীর জেলে ও মহাজনরা বরাবরের মতো এবারও ভোটাধিকার প্রয়োগে মাছ ধরা ও শুঁটকি উৎপাদনের কাজ বন্ধ রেখে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিন দিনে আট হাজারের বেশি জেলে ও মহাজন দুর্গম চর ছেড়ে লোকালয়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাগরতীরবর্তী বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন দুবলার চরের আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শেলারচর—এই চারটি শুঁটকি পল্লীতে শোভা পাচ্ছিল বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই চরে অবস্থানরত শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত জেলে–মহাজনরা নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন।
বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সম্প্রতি চারটি শুঁটকি পল্লীতে গিয়ে জেলে–মহাজনদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।
সুন্দরবন বিভাগ ও শুঁটকি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুবলার চরের চারটি পল্লীতে দশ হাজারের বেশি জেলে–মহাজন বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে মাছ আহরণ করে শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অধিকাংশের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর ও তালা, বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল এবং খুলনার ডুমুরিয়া, দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায়। জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন এলেই তারা ভোট দিতে চরের কাজ বন্ধ রেখে নিজ এলাকায় ফিরে যান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের মহাজন ও রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো. মোতাসিম ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক জাকির শেখ, ডুমুরিয়ার মালো জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ বিশ্বাস এবং আশাশুনির চাকলা জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুর রউফ মেম্বার বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য তারা নিজ নিজ এলাকায় চলে এসেছেন। ভোট শেষে আবার সবাই চরে ফিরে যাবেন।
দুবলার চরের ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বরাবরের মতো এবারও দুর্গম দুবলার চরে সংসদ নির্বাচনের আমেজ ছিল। তিন দিনে দশ হাজারের বেশি জেলের মধ্যে আট হাজারেরও বেশি জেলে ভোট দিতে চর ছেড়ে চলে গেছেন। যাওয়ার আগে তারা পোস্টার-ব্যানার টানিয়েছেন এবং নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার আলোরকোল ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. তানভির হাসান ইমরান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শুঁটকি পল্লীতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। ভোট দিতে জেলে–মহাজনরা চলে যাওয়ায় চরগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। গত তিন দিনে আট হাজারের বেশি জেলে–মহাজন বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে চর ত্যাগ করেছেন। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন