সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে জেলে অপহরণের ঘটনা থামছেই না। বুধবার রাতে আরও দুই জেলেকে অপহরণ করেছে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা।
বনজীবী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা ও আড়–য়াগাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন রায়হান (২২) ও সুমন (২৪)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার শরণখোলা গ্রামে।
অপরদিকে, অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ১৪ জেলে মুক্তি পেয়েছেন। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীর চার মহাজনের অধীনে থাকা ওই জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে বনদস্যুরা। তবে এখনও দুই মহাজনের ১২ জেলে দস্যুদের কাছে জিম্মি রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সুন্দরবনের শেলার চর শুটকি পল্লীর মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অপহৃত প্রত্যেক জেলেকে মুক্ত করতে বনদস্যুদের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুটকি পল্লীতে হামলা চালিয়ে একটি ট্রলারসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করে। এর কয়েক দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করে। তাদের মধ্যে ১৪ জন ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনায় শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামি করে শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর তেমন প্রভাব পড়েনি। ফলে ওই এলাকার বনাঞ্চল আবারও দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন