ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বাজারে। বগুড়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নির্মাণসামগ্রীর দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও নতুন বাড়ি-ভবন নির্মাণে আগ্রহীরা।
স্থানীয় বাজারে দেখা গেছে, আগে যেখানে প্রতি স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাট প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় থেকে সাত হাজার টাকায়। পাশাপাশি সিমেন্ট, রড, ইট ও পাথরের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে নতুন বাড়ি ও ভবন নির্মাণে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নির্মাণ শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয়।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু নির্মাণসামগ্রী নয়, খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে পারে। এতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
জানা গেছে, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। বিকল্প রুটে পণ্য পরিবহনে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত চার্জ নিচ্ছে। এতে কন্টেইনার ভাড়া ও পরিবহন সময় বেড়ে গেছে। ফলে চাপে পড়ছেন বাংলাদেশি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকেরা।
এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বগুড়া অঞ্চলের নির্মাণসামগ্রীর বাজারেও। কিছু ব্যবসায়ী মজুদ পণ্য বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও ভবনের মালিকরা। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এ খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি টন রডের দাম প্রায় আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রকারভেদে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায়, যা আগে ছিল ৭২ হাজার থেকে ৮২ হাজার টাকা। প্রথম শ্রেণির ইট আগে প্রতি হাজার ১০ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩২০ টাকায়। সিমেন্টের প্রতি বস্তা আগে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকায়। এছাড়া ভুটানি পাথরের দামও বেড়ে গেছে।
বগুড়ার বিসিএল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বগুড়া অঞ্চলেও পড়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে বিলম্ব হলে রপ্তানিমুখী খাতগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। আবার আমদানি ব্যয় বাড়লে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বগুড়ার শাপলা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এম এ সাঈদ বলেন, যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে না পড়লেও এর ছাপ ইতোমধ্যে বাজারে দেখা যাচ্ছে। বগুড়ায় রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে। পাশাপাশি চাল, ডাল ও সবজির বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমদানি করা ভোজ্যতেল, গম ও চিনির দামও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল